জুলাই আন্দোলনে এক দিনে ৪০টি গ্রেনেড ইস্যু করেছিলাম: কনস্টেবল মোবারক

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় তৎকালীন ওসি আবুল হাসানের নির্দেশে ৪০টি গ্রেনেড ইস্যু করা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন থানাটির তৎকালীন কনস্টেবল মো. মোবারক হোসেন।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এ ১৭তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের ডেমরা থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত আছেন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় তিনি যাত্রাবাড়ী থানার অস্ত্রাগার ইনচার্জের সহকারী ছিলেন।
জবানবন্দিতে মোবারক হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই তৎকালীন ওসি আবুল হাসানের নির্দেশে তাঁর বডিগার্ড কনস্টেবল হাসিনুরকে ২৫টি শটগানের সিসা কার্তুজ এবং এসআই মৃগাংক শেখর তালুকদারকে ১০০টি চায়না রাইফেলের গুলি, ২৫০টি শটগানের সিসা কার্তুজ ও ৪০টি গ্রেনেড ইস্যু করেন। এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ গ্রহণের সময় হাসিনুর ও মৃগাংক রেজিস্টারে স্বাক্ষর করেন বলেও জানান তিনি।
ইমাম হাসান (তাইম) হত্যা মামলায় এই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলায় পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
মোবারক হোসেন আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জোরদার হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পূর্বাঞ্চল পুলিশ লাইন ও এপিবিএন থেকে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ সদস্য যাত্রাবাড়ী থানায় দায়িত্ব পালনের জন্য আসেন। সে সময় তৎকালীন ডিসি ইকবাল, এডিসি মাসুদ, এডিসি শামীম ও এসি নাহিদ হাসান বিভিন্ন পোস্টে ওয়ারলেস ও মুঠোফোনের মাধ্যমে অস্ত্র ও গুলি পাঠানোর নির্দেশ দিতেন।
তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওসি ও অস্ত্রাগার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে অফিসার ও ফোর্সদের মধ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদ বিতরণ করা হতো।
এদিকে একই মামলায় ১৬তম সাক্ষী হিসেবে এসআই মো. মনিরুজ্জামানও সোমবার ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন।