জাতিসংঘে বাংলাদেশের অর্জন, তবে ফলাফলের ভিত্তিতেই মূল্যায়নের আহ্বান: জমিয়ত সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়াকে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। তবে একই সঙ্গে তিনি এ অর্জনকে ঘিরে কিছু প্রশ্ন ও উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেছেন।
শুক্রবার (৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি মর্যাদাপূর্ণ অর্জন এবং বর্তমান সরকারের উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সাফল্য। তবে জাতিসংঘের বর্তমান ভূমিকা ও কার্যকারিতা নিয়ে বিদ্যমান বিতর্কের কারণে এ অর্জনকে সরলভাবে উদযাপন করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘ–এর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে পরাশক্তিগুলোর প্রভাবমুক্ত থেকে সংস্থাটি কতটা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনা রয়েছে। এ কারণে জাতিসংঘের শীর্ষ কোনো পদে দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টিকে শুধু সম্মানের অর্জন হিসেবে নয়, বরং বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ড. খলিলুর রহমানের সম্পৃক্ততায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল, তা নিয়ে সমাজের বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও উদ্বেগ রয়েছে। ফলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে তাঁর নির্বাচনকে ঘিরেও নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে।
জমিয়ত সভাপতি বলেন, এই দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ কতটুকু রক্ষা করতে পারেন, সেটিই হবে মূল বিবেচনার বিষয়। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান, সীমান্ত ইস্যু, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন বিরোধ, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালীকরণ এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে তাঁর কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সমস্যাগুলোর সমাধানে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হলে এ অর্জন আরও তাৎপর্যপূর্ণ ও সার্থক হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্যথায় এ পদ লাভের বাস্তব সুফল নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।
সবশেষে তিনি দেশের কল্যাণ, মর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ইতিবাচক ফলাফল কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।