রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল রানা ও স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় প্রায় ৪০ মিনিট ধরে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন বিচারক। আদালত বলেন, সোহেল রানা শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করেছিলেন, যার প্রমাণ মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণে পাওয়া গেছে। জবানবন্দীতেও তিনি ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন। আদালতের মতে, ঘটনার পর সোহেল রানাকে পালাতে সহযোগিতা করেন তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন।
রায়ে আরও বলা হয়, আসামিরা দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের কোনো আবেদন করেননি। একই অপরাধে উভয়ের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, এ ধরনের অপরাধের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত না হলে বিচারব্যবস্থা ব্যর্থ হবে। একইসঙ্গে আদালত মনে করেন, আসামিদের অপরাধ সংশোধনযোগ্য নয়।
রায়কে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আদালত ৭ জুন রায়ের দিন নির্ধারণ করেন। আলোচিত এ মামলায় ১৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। দেশের ইতিহাসে এটি প্রথম ধর্ষণ ও হত্যা মামলা, যার বিচারকাজ মাত্র চার দিনে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি ছিল, সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং তারা সর্বোচ্চ শাস্তির যোগ্য। অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী সোহেল রানার মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন।
গত ১৯ মে পল্লবীতে প্রতিবেশী সোহেল রানার বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী, ৮ বছর বয়সী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন রামিসার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার সাত ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ এবং ছয় দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।