নবী-রাসুল ও সাহাবীদের চরিত্র নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন জামায়াতী সোলায়মান

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লাকসাম থেকে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধানকে ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যে এবার সমালোচনার মুখে পড়েছেন জামায়াত-শিবিরপন্থি রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত সোলায়মান।
জিসানের বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এ ঘটনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সোলায়মানের একটি ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়, যেখানে তাকে নবী-রাসুল ও সাহাবীদের চরিত্র নিয়ে আপত্তিকর ও অনুপযুক্ত মন্তব্য করতে দেখা যায়।
প্রাথমিকভাবে ভিডিওটি সম্পাদিত (এডিটেড) বলে দাবি করা হলেও, পরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ভিডিওটি তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘সোলায়মান অ্যানালাইসিস’-এ প্রকাশিত হয়েছিল। সমালোচনার মুখে তিনি ভিডিওটি সরিয়ে ফেলেন।
বিতর্কের পর রবিবার নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সোলায়মান বলেন, তার বক্তব্য নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং অনেক আলেম-ওলামা তীব্র সমালোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, “জিসানকে নিয়ে যে ঘটনা, তার গুমের অভিযোগ এবং নারীঘটিত কেলেঙ্কারির বিষয় সামনে আসার পর শিবির তাকে বহিষ্কার করেছে। এ বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমি বলেছিলাম, মানুষ মাত্রই ভুল করতে পারে। সেখানে আমি সাহাবী ও নবীদের উদাহরণ অযাচিতভাবে টেনে এনেছিলাম। এতে অনেকেই সমালোচনা করেছেন। আমি সেই সমালোচনাকে স্বাগত জানাই।”
সোলায়মান আরও বলেন, “জিসানের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ থাকতে পারে। তবে আমি কখনোই তার বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক কাজকে সমর্থন করিনি, করবও না। তার উপযুক্ত বিচার, ন্যায়বিচার এবং সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”
তিনি স্বীকার করেন, “এই বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সাহাবী কিংবা নবী-রাসুলদের উদাহরণ টেনে আনাটা সম্পূর্ণ অযাচিত ছিল। এর কোনো প্রয়োজন ছিল না। এজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি এবং সাহাবী ও নবী-রাসুলদের বিষয়ে আমার আকিদা স্পষ্ট করছি।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোলায়মানের বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। অনেকে তার ক্ষমা প্রার্থনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, কেউ কেউ এটিকে জনমতের চাপে দেওয়া ব্যাখ্যা বলে মন্তব্য করছেন। জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত এবং পুরো ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।