
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ব্যক্তিমালিকানাধীন সোনার অলংকারকে এখন ব্যক্তিগত সম্পদের বদলে মূলধনি সম্পদ হিসেবে গণ্য করছে। এতে স্বর্ণ বিক্রির আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স বা মূলধনি মুনাফা কর দিতে হবে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আদলে বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা। এতে ফাঁকি কমবে বলেও মনে করছেন তাঁরা।আজ রোববার রাজধানীর পল্টনে অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে অর্থ বিল নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে এ কথা বলেন রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফের সভাপতি দৌলত আকতার মালা। সভায় উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের কর, শুল্ক ও ভ্যাট নীতি বিভাগের কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।
সেমিনারে সোনার অলংকারের মতো ব্যক্তিগত সম্পদকে মূলধনি সম্পদ হিসেবে গণ্য করা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কর পরামর্শক স্নেহাশীষ বড়ুয়া। বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দেন এনবিআরের আয়কর নীতি বিভাগের প্রথম সচিব জাফর ইমাম। তিনি বলেন,
ইউরোপের অনেক দেশে এই পদ্ধতি আছে। আন্তর্জাতিক পদ্ধতি মেনেই এটা করা হয়েছে। অনেকেই রিটার্নে সোনা বা সোনার অলংকার দেখান। তবে মূল্য অজানা উল্লেখ করা হয়। এতে অনেক ফাঁকি থাকে বলে জানান তিনি।
স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, ব্যক্তি আয়করে প্রথমেই ১০ শতাংশ না রেখে ৫ শতাংশ রাখা প্রয়োজন ছিল। এতে প্রথম দিকে করতাদার ওপর চাপ কমত। ভ্যাটের তথ্য রাখতে ২৪টি কলাম পূরণ করতে হয়। এটা কমানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রে কোনো কর বাড়ানো হয়নি। বরং এখন থেকে এটা সমন্বয় করা হবে। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রিম কর ফেরত দিতে হবে। আমরা এটা ফেরত দেব।’
কালোটাকা সাদা করা প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কালোটাকা সাদা করার কোনো বিধান বাজেটে আনা হয়নি। এমন কোনো চিন্তাই ছিল না। যদিও আবাসন ব্যবসায়ীদের দিক থেকে চাপ ছিল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমেই বলা হয়েছে, কালোটাকার কোনো ব্যাপার থাকবে না।