জুলাই বিপ্লবে কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবককে গুলি, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুরসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই বিপ্লব চলাকালে রাজধানীর রামপুরায় নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি এবং মায়া ইসলাম ও মো. নাদিমকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার বেলা সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে চারজন পলাতক। হাবিবুর রহমান ছাড়াও পলাতক অন্য তিনজন হলেন খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমান এবং সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি পুলিশের সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে এদিন সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
রায় ঘোষণার আগে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামি নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি গুলি করেছেন। একজন মানুষ জীবন বাঁচাতে নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে ছিলেন, সেই অবস্থায় তাকে নির্মমভাবে গুলি করা হয়। প্রসিকিউশন আসামিদের অপরাধের পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেছে এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
গত ১৫ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের দ্বিতীয় দফার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। সেদিন আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অন্যদিকে চিফ প্রসিকিউটর পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানান। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ট্রাইব্যুনাল ২৮ জুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।
এর আগে গত ১০ জুন পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। জবানবন্দিতে তিনি এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অভিযোগও আনেন। এর আগে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি প্রথম দফায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন তিনি।
গত ৪ মার্চ মামলাটির রায় ঘোষণার কথা থাকলেও প্রসিকিউশনের নতুন ডিজিটাল আলামত উপস্থাপনের আবেদনের পর রায় স্থগিত করা হয়। পরে প্রথম সাক্ষী আমির হোসেনকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়।
গত বছরের ২৩ অক্টোবর সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন এবং প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দির মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।