টিপকাণ্ডে চাকরিচ্যুত কনস্টেবল নাজমুলকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ

রাজধানীর ফার্মগেটে ২০২২ সালের বহুল আলোচিত ‘টিপকাণ্ডে’ চাকরিচ্যুত পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল তারেককে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-১। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ট্রাইব্যুনালের বিচারক আমিরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
কনস্টেবল নাজমুল তারেকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম কাজল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলার রায়ে আদালত নাজমুলকে পুনরায় চাকরিতে বহাল করার নির্দেশ দিয়েছেন।
২০২২ সালের ২ এপ্রিল রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনাটি ‘টিপকাণ্ড’ নামে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। সে সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রটেকশন বিভাগে কর্মরত ছিলেন কনস্টেবল নাজমুল তারেক। অভিযোগ ছিল, উল্টো পথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লতা সমাদ্দারের পায়ে মোটরসাইকেল লাগলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
লতা সমাদ্দার অভিযোগ করেন, পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি তাকে ‘টিপ পরছোস কেন’ বলে কটূক্তি করেন এবং হয়রানি করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে তদন্ত শেষে নাজমুল তারেককে প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত এবং পরবর্তীতে বিভাগীয় প্রক্রিয়া শেষে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তবে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর থেকেই নাজমুল তারেক দাবি করে আসছিলেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। তার বক্তব্য ছিল, টিপ নিয়ে তিনি কোনো কটূক্তি করেননি এবং অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনাস্থলের পাশের এক দোকানদারও সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তিনি টিপ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
চাকরি ফিরে পেতে ২০২২ সালের নভেম্বরে নাজমুল তারেক প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল তার পক্ষে রায় দিয়ে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন।