বিএনপি নেতার চাপে যুবলীগ নেতাকে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে পুলিশ।

জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার আসামি যুবলীগ ক্যাডার ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম রিয়াদ। অথচ তারই স্বভাব-চরিত্র ভালো বলে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। ওসির দাবি, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ‘সুপারিশে’ তিনি এমন কাজ করেছেন। তবে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রিয়াদ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের মল্লিকা দিঘির বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি শশীদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। দলীয় কোনো পদ না থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুবলীগের ছত্রছায়ায় সক্রিয় রাজনীতি করেছেন এবং এখনো ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কুমিল্লা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এমএ জাহেরের।
তিনি দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) সাবেক সভাপতি আবু তৈয়বেরও একান্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় প্রতিটি কর্মসূচিতে রিয়াদের সরব উপস্থিতি ছিল। মিছিল-মিটিংয়ে তিনি অর্থায়ন করতেন, সরবরাহ করতেন লোকবল। আর এই প্রভাবকে ব্যবহার করে নিজ এলাকায় দখল, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিতে লিপ্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জুলাই হামলার ঘটনায় হত্যা মামলা
২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কালা কচুয়া এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা—এমন অভিযোগে ভুক্তভোগী সোহেল রানা ২০২৫ সালের ১৫ মে কুমিল্লা আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২৩৬ জনকে আসামি করা হয়, যার মধ্যে ৫০ নম্বর আসামি হিসেবে রয়েছেন আতিকুল ইসলাম রিয়াদ।
স্বভাব-চরিত্র ভালো?
এরই মধ্যে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর এক তথ্য—ওই মামলায় অভিযুক্ত রিয়াদের নামে ‘ভালো স্বভাব ও চরিত্রের’ প্রত্যয়নপত্র দেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, রিয়াদ এই প্রত্যয়নপত্রটি মামলায় নিজের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী সোহেল রানা বলেন,
“রিয়াদের লোকজন আমার কাছ থেকে জোর করে সাদা স্ট্যাম্পে সই নেয়। আমি কোনোভাবেই তার নাম বাদ দেওয়ার পক্ষপাতী নই। আমি নিজেই হামলার শিকার হয়েছি।”
রিয়াদের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ওসির বক্তব্যে উঠে এলো রাজনৈতিক চাপের ইঙ্গিত
বিষয়টি জানতে চাইলে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন,
“বিএনপির বড় বড় নেতা সুপারিশ করেছেন। অনেক কিছু হয়েছে। শুধু শুধু আমাকে প্রেশার দিয়েন না। অনেক কিছু হয়ে গেছে। এখন এটা প্যাঁচাবেন না। এটার মেয়াদও শেষ।”
তবে কোন কোন বিএনপি নেতা সুপারিশ করেছেন—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি নাম বলতে রাজি হননি।
অস্বীকার করলেন বিএনপি নেতা
ওসির বক্তব্যে নাম আসা কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হাজী জসিম উদ্দিন এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন,
“আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। কীসের প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে ওসি সাহেব, সেটাও জানি না।”