হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ষাঁড়ের লড়াই, দর্শকের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া

নড়াইল জেলার সদর উপজেলার রুখালী গ্রামে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আয়োজিত ষাঁড়ের লড়াইয়ে প্রাণ গেল রমেন মোল্লা (৩৫) নামের এক যুবকের। গত সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান রমেন।
নিহত রমেন মোল্লা কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান মোল্যার ছেলে। পেশায় তিনি একজন টিউবওয়েল মিস্ত্রি ছিলেন। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
রমেনের মামাতো ভাই আনিস শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লড়াই শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি ষাঁড় হঠাৎ করে লড়াইয়ের মাঠ থেকে বেরিয়ে দৌড় দেয়। আতঙ্কে দর্শকরা দিগ্বিদিক ছুটতে থাকেন। এ সময় রমেন একটি খাবারের ভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যান। এরপর সেই উন্মত্ত ষাঁড়টি তাকে চেপে ধরে। এতে রমেনের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে দ্রুত তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য এমন অমানবিক ও প্রাণঘাতী খেলা কখনোই কাম্য নয়। ষাঁড়ের যেমন শারীরিক ক্ষতি হয়, তেমনি দর্শকদের জীবনও হুমকির মুখে পড়ে। তাছাড়া লড়াইয়ের দিন আশেপাশের রাস্তাগুলোতেও চরম যানজট ও জনদুর্ভোগ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট একটি রায়ে খেলার নামে ষাঁড়, মোরগ, ছাগল লড়াই ও কুকুর নিধন বন্ধে নির্দেশনা দেয়। বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
তবে আদালতের এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ষাঁড়ের লড়াই আয়োজন করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব আয়োজনে স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধিরা অতিথি হয়ে আসেন এবং প্রকাশ্যে পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজ এই ধরনের অমানবিক আয়োজন বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। একইসঙ্গে রমেন মোল্লার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।