‘আ.লীগের ডেভিল’ ট্যাগে গোলাপগঞ্জের পরিচিতি মুখ সাংবাদিক আব্দুল আহাদকে হেনস্থা ও নির্যাতন।

গোলাপগঞ্জ (সিলেট): সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১ এর সভাপতি, গোলাপগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক আব্দুল আহাদের উপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর, সাংবাদিক কাওসারসহ কতিপয় ব্যক্তি তাকে জুলাই আন্দোলনের পলাতক আসামি হিসেবে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ঘেরাও করে বলে জানা গেছে।
আহাদ জানান, প্রাণে বাঁচতে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় হামলাকারীরা তার পিছু নেয় এবং ফেসবুক লাইভে ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচার করে। একপর্যায়ে ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে দৌড়াতে গিয়ে কাদাপানিতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে গেলে তারা তাকে ধরে ফেলে এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে।
আব্দুল আহাদ দাবি করেন, তিনি সত্যিকারের সাংবাদিকতা করায় কিছু ব্যক্তির স্বার্থে আঘাত লেগেছে, যার জেরে এই হামলা সংঘটিত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি কখনোই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং জুলাই আন্দোলন দমনে কোনো ভূমিকা রাখেননি। তবে, কিছু ব্যক্তির ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে তাকে জুলাই হত্যা মামলায় আসামি করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ফেসবুক লাইভ ভিডিওতে অনেকে মন্তব্য করেছেন যে, আহাদ আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে ছবি থাকায় তিনি আওয়ামী ঘরানার সাংবাদিক হিসেবে প্রভাব বিস্তার করেছেন। এর জবাবে আহাদ বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন, এবং ওই ছবিগুলো সেই সময়ের।
তবে, স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে। অনেকে জানান, আব্দুল আহাদ বিদ্যুৎ সেবায় হয়রানির অভিযোগে প্রতিকার দিয়েছেন এবং দূরবর্তী এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি একজন সমাজসেবী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এবং সামাজিক কাজে সবসময় এগিয়ে এসেছেন। তবে স্থানীয়রা এও বলেন, মানুষ হিসেবে তারও ভুলত্রুটি থাকতে পারে, কারণ দোষ-গুণ নিয়েই মানুষ। তাই বলে এভাবে একজনকে হেনস্থা করা ও লাইভ সম্প্রচার করা আইনত অপরাধ হিসেবে দেখা হয়।
এ ঘটনায় এখনো কোনো পুলিশি হস্তক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক আহাদ এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। গোলাপগঞ্জে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা চলছে। আজ ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় স্থানীয় চৌঘরি বাজরে, ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ সভা আয়োজন করা হয়েছে।