সর্বশেষ
দল থেকে বহিষ্কৃত হলেন জামায়তের সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি: আসন শূন্য হতে পারে ইঙ্গিত ইসি কমিশনারের।মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ বিরোধী নেতাদের আটকসাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে জামায়াতের বিবৃতিপ্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিটে ছাড়, লাউঞ্জ সুবিধা ও ভূমি সেবায় অগ্রাধিকারস্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে ফিলিস্তিনজুড়ে উল্লাস, গাজায় আনন্দ মিছিলবাবাকে হজে পাঠানোর স্বপ্ন দেখা সুজনের পাশে প্রধানমন্ত্রী, পড়াশোনার দায়িত্ব নিল সরকারপ্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর প্রতিমন্ত্রীর বাড়ি ও ছেলেদের নামে বিতর্কিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন।শরিকদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে নেই জমিয়ত।দল থেকে বহিষ্কৃত হলেন জামায়তের সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি: আসন শূন্য হতে পারে ইঙ্গিত ইসি কমিশনারের।মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ বিরোধী নেতাদের আটকসাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে জামায়াতের বিবৃতিপ্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিটে ছাড়, লাউঞ্জ সুবিধা ও ভূমি সেবায় অগ্রাধিকারস্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে ফিলিস্তিনজুড়ে উল্লাস, গাজায় আনন্দ মিছিলবাবাকে হজে পাঠানোর স্বপ্ন দেখা সুজনের পাশে প্রধানমন্ত্রী, পড়াশোনার দায়িত্ব নিল সরকারপ্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর প্রতিমন্ত্রীর বাড়ি ও ছেলেদের নামে বিতর্কিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন।শরিকদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে নেই জমিয়ত।
Live Bangla Logo
নিউজ
পড়া হচ্ছে...

ইসলামী দলগুলোর দ্বিমুখী নীতি: শহিদুল আলমের মুক্তিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া, কুরআন অবমাননায় হতাশাজনক নীরবতা!

প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর, ২০২৫
ইসলামী দলগুলোর দ্বিমুখী নীতি: শহিদুল আলমের মুক্তিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া, কুরআন অবমাননায় হতাশাজনক নীরবতা!

ঢাকা, ৮ অক্টোবর ২০২৫ (নিজস্ব প্রতিবেদক): বাংলাদেশের ইসলামী দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সুমুদ ফ্লোটিল্লা ঘটনায় ইসরাইলের হাতে আটককৃত বিখ্যাত ফটোগ্রাফার শহিদুল আলমের মুক্তির দাবিতে তারা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সরকারের কাছে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

কিন্তু একই সময়ে, সাম্প্রতিক কুরআন অবমাননার ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ না থাকা বা অত্যন্ত দেরিতে হওয়া রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র হতাশা সৃষ্টি করেছে। এই দ্বিমুখী নীতিকে অনেকে ‘সিলেকটিভ আউটরেজ’ বা নির্বাচিত ক্ষোভ হিসেবে অভিহিত করছেন, যা ইসলামী দলগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

সুমুদ ফ্লোটিল্লা, যা গাজায় মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল, সেখান থেকে শহিদুল আলমকে ইসরাইলী বাহিনী আটক করার পরপরই বাংলাদেশের প্রধান ইসলামী দলগুলো যেমন জামায়াত-ই-ইসলামী, হেফাজত-ই-ইসলাম এবং অন্যান্যরা সোচ্চার হয়ে ওঠে। তারা বিবৃতি জারি করে সরকারকে অবিলম্বে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানায়, এমনকি রাস্তায় প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।

এই দ্রুত প্রতিক্রিয়াকে অনেকে প্রশংসা করলেও, সমালোচকরা বলছেন যে এটি মূলত রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের জন্য করা হয়েছে, কারণ শহিদুল আলমের ঘটনা ইসরাইল-বিরোধী আন্দোলনের সাথে যুক্ত এবং এটি তাদের ভোটব্যাঙ্ককে শক্তিশালী করে।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ঘটে যাওয়া কুরআন অবমাননার ঘটনায় অপূর্ব পাল কুরআনের পাতা ছিঁড়ে, লাথি মেরে এবং ভিডিও রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর ছাত্ররা তাকে মারধর করে এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে এবং মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ছাত্ররা কুরআনের ফ্রি কপি বিতরণ করে প্রতিবাদ করেছে।

কিন্তু ইসলামী দলগুলোর পক্ষ থেকে কোনো বড় আকারের প্রতিবাদ সমাবেশ বা তাৎক্ষণিক বিবৃতি দেখা যায়নি। সমালোচকরা বলছেন, এটি ধর্মীয় সংবেদনশীলতার সরাসরি অবমাননা হলেও দলগুলো নীরব থেকেছে, যা তাদের মূল আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক।
এই নীরবতাকে সমালোচকরা ‘হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন, কারণ কুরআন অবমাননা সরাসরি ইসলামী বিশ্বাসের সাথে যুক্ত, যা তাদের মূল আদর্শের অংশ হওয়া উচিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মিনহাজ মাসুম বলেন, “ইসলামী দলগুলোর এই সিলেকটিভ প্রতিক্রিয়া তাদের দ্বিচারিতা প্রকাশ করে। শহিদুল আলমের মতো ঘটনায় দ্রুত সোচ্চার হওয়া রাজনৈতিক লাভের জন্য, কিন্তু কুরআন অবমাননায় নীরব থাকা দেখায় যে তারা সত্যিকারের ধর্মীয় বিষয়গুলোকে অগ্রাহ্য করছে। এটি তাদের সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে।”

সমাজকর্মী এবং লেখক ফারহানা বেগম যোগ করেন, “এই দলগুলো যদি সত্যিই ইসলামের রক্ষক হয়ে থাকে, তাহলে কুরআন অবমাননার বিরুদ্ধে কেন প্রথম সারিতে নেই? এটি দেখায় যে তাদের অগ্রাধিকার রাজনীতি, ধর্ম নয়। এমন দ্বিমুখিতা জনগণের বিশ্বাস হারাবে।”

ইসলামী দলগুলোর পক্ষ থেকে এই সমালোচনার জবাবে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে একটি সূত্র জানিয়েছে যে তারা ধর্মীয় বিষয়গুলোতে সতর্কতার সাথে প্রতিক্রিয়া জানায় যাতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা না হয়। তবে এই যুক্তি অনেকের কাছে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে হচ্ছে।
এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে, যেখানে ইসলামী দলগুলোকে তাদের নীতির পুনর্মূল্যায়ন করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। অন্যথায়, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও ক্ষয়প্রাপ্ত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।