চিফ প্রসিকিউটর: কারাগার ঘোষণা আমাদের বিষয় নয়, ২৪ ঘণ্টায় আদালতে হাজিরা জরুরি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, কোনো স্থানকে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা তাঁদের বিবেচ্য বিষয় নয়। তিনি আরও বলেছেন, গ্রেপ্তারের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে আদালতে হাজির করতে হবে, এবং তারপর আদালতের নির্দেশ অনুসারে আসামিকে নির্ধারিত স্থানে রাখা হবে।
আজ সোমবার বিকেলে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তাজুল ইসলাম। গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাময়িক কারাগার হিসেবে ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সাংবাদিকেরা এ বিষয়ে তাঁর মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এখনও নিশ্চিত নই যে কোনো উপকারাগার ঘোষণা হয়েছে কি না। কোনো নথি আমার হাতে নেই। যদি সরকার কোনো নির্দিষ্ট স্থানকে উপকারাগার ঘোষণা করে, তাহলে তাদের সেই অধিকার আছে। কোন স্থানকে কারাগার হিসেবে নির্ধারণ করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব, তাই এটা আমাদের উদ্বেগের বিষয় নয়।’
কাউকে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর কোনো বিধান নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইন অনুসারে, গ্রেপ্তারের পর আসামিকে আদালতে হাজির করতে হবে। আদালত যদি পরবর্তী আদেশে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন, তাহলে সেটা কেন্দ্রীয় কারাগার, সংসদ ভবন, এমপি হোস্টেল বা সরকারের ঘোষিত অন্য কোনো স্থান হতে পারে। কিন্তু সেই স্থানকে কারাগার হিসেবে গণ্য করা হবে।’
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, কোনো স্থানকে কারাগার ঘোষণা করা প্রসিকিউশন বা তদন্তকারী সংস্থার বিষয় নয়। তাঁর কথায়, ‘আমাদের মূল উদ্বেগ হলো আইন মেনে কাজ করা। গ্রেপ্তারের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে আদালতে হাজির করতে হবে। এটা সংবিধান, আইসিটি আইন এবং ফৌজদারি কার্যবিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।’
‘সেনাবাহিনীর গ্রেপ্তারের অধিকার নেই’
ব্রিফিংয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলতে পুলিশকেই বোঝায়, সেনাবাহিনীর গ্রেপ্তারের কোনো ক্ষমতা নেই।
প্রসঙ্গত, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম-নির্যাতনের মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রামপুরা-বনশ্রী এলাকায় হত্যাকাণ্ডের মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ২৫ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৫ জনকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এই সেনা কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পালনের জন্য সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্তরকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু তারা গ্রেপ্তার করবে না; তারা শুধু অবহিত থাকবে যাতে পুলিশ পরোয়ানা তামিল করতে গেলে তারা সহায়তা করতে পারে। গ্রেপ্তারের অধিকার শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর, অন্য কারও নয়।
হেফাজতে রাখার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রেপ্তার দেখানোর পর থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে আদালতে হাজির করতে হবে।