জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশ পুলিশের শেষ কনটিনজেন্টকে দেশে ফেরার নির্দেশ।

জাতিসংঘ সদর দফতর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্দেশনা বাংলাদেশ পুলিশের শান্তিরক্ষা সেলকে জানানো হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের বিভিন্ন মিশনে অসামান্য সাফল্য ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে বাংলাদেশ পুলিশ। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের কনটিনজেন্ট সদস্যরা অবদান রেখেছেন। তবে সাম্প্রতিক কাঠামোগত পরিবর্তন ও মিশন পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে জাতিসংঘ ধীরে ধীরে কিছু কনটিনজেন্ট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, “জাতিসংঘ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়া গেছে। সেখানে বাংলাদেশের শেষ পুলিশ কনটিনজেন্টকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফেরার তারিখ ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে সদর দপ্তরে বৈঠক চলছে।”
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের অংশগ্রহণ শুরু হয় ১৯৮৯ সালে। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রায় ২৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য বিশ্বজুড়ে শান্তিরক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তাদের দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক সহায়তার জন্য জাতিসংঘের বিভিন্ন মহল থেকে বারবার প্রশংসিত হয়েছে বাংলাদেশ।
বর্তমানে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রায় কয়েকশ সদস্যের শেষ কনটিনজেন্ট। তারা মিশন থেকে ফেরার পর প্রশিক্ষণ, পুরস্কার ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার আওতায় আসবেন বলে জানা গেছে।
একজন শান্তিরক্ষী কর্মকর্তা বলেন, “আমরা গর্বিত যে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে শান্তিরক্ষায় কাজ করেছি। ফেরার খবর শুনে মিশ্র অনুভূতি হচ্ছে—একদিকে গর্ব, অন্যদিকে বিদায়ের কষ্ট।”
সম্পাদকীয় মন্তব্য:
বাংলাদেশ পুলিশ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দীর্ঘ ৩৫ বছরের গৌরবময় অধ্যায় রচনা করেছে। তাদের এই অবদান দেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উজ্জ্বল করেছে।