চীনে চাকরির প্রলোভনে নারী পাচার: র্যাব-৪ এর অভিযানে চার সদস্য গ্রেপ্তার।

দশকজুড়ে সক্রিয় চক্রের মূলহোতা আব্বাস মোল্লা আটক, অন্তত ২০ নারী পাচারের তথ্য পেয়েছে র্যাব
চীনে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণী বাংলাদেশি নারীদের দেহব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগে সক্রিয় মানবপাচার চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৪।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—চক্রের মূলহোতা আব্বাস মোল্লা, সহযোগী জাহিদুল ইসলাম ওরফে বাবু, মিনার সরদার এবং মোহাম্মদ রিপন শেখ।
র্যাব জানায়, সম্প্রতি চীন থেকে পালিয়ে আসা এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। তদন্ত শেষে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চক্রের মূল সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৪ এর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
কীভাবে ঘটেছিল পাচার
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব আলম জানান, ভুক্তভোগী তরুণী পিরোজপুরের একটি বিউটি পারলারে কাজ করতেন। কয়েক মাস আগে তার আত্মীয়ের মাধ্যমে ফেসবুকে বাবু নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে চাকরির খোঁজে ঢাকায় এলে বাবু তাকে চীনে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রস্তাব দেয়।
বাবু এরপর তরুণীকে ঢাকায় এনে পরিচয় করায় চক্রের হোতা আব্বাস মোল্লার সঙ্গে। আব্বাস তাকে ১ লাখ টাকা মাসিক বেতন এবং চীনে পৌঁছালে আরও ১০ লাখ টাকার বোনাসের প্রতিশ্রুতি দেয়।
চক্রের সহযোগী সিলভি নামে এক নারী পাসপোর্ট ও ভিসার ব্যবস্থা করে ভুক্তভোগীদের চীনে পাঠায়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের আলাদা করে দেহব্যবসায় বাধ্য করা হয়।
অসহনীয় নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের কেউ কেউ বিভিন্ন অজুহাতে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফিরে আসার পর ভুক্তভোগী তার এক আত্মীয়াকে উদ্ধার করার জন্য চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আব্বাস তাকে আবারও অবৈধ কাজে বাধ্য করার চেষ্টা করে।
শেষ পর্যন্ত ওই নারী র্যাবের সহায়তা চান এবং অভিযোগ দায়ের করেন।
র্যাব-৪ এর কমান্ডার জানান, প্রযুক্তিগত সহায়তায় চক্রের অবস্থান শনাক্ত করে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি প্রায় দশ বছর ধরে বাংলাদেশে সক্রিয়। তারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নারীদের চীনে চাকরি বা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করত।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি জাল পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দ্রুত পাচারের ব্যবস্থা করত। এ পর্যন্ত অন্তত ২০ নারীকে চীনে পাচারের তথ্য মিলেছে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
র্যাব জানায়, চক্রটির সঙ্গে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি ও কিছু চীনা নাগরিকের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।