ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে শিবির।

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫ | ঢাকা
দেশের চারটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঐতিহাসিক সাফল্য নিয়ে সারা দেশে আলোচনা চলছে। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে অনুষ্ঠিত এসব নির্বাচনে সংগঠনটি বিপুল সংখ্যক পদে জয় পেয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী—
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু): ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয়ী হয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল।
• জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু): ২৫টি পদের মধ্যে ২০টি দখল করেছে শিবির।
• চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু): ২৬টি পদের মধ্যে ২৪টিতেই শিবিরের প্রার্থীরা বিজয়ী।
• রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু): ২৩টি পদের মধ্যে ২০টিতে জয় পেয়েছে সংগঠনটি।
🔹 “মেধার রাজনীতির জয়”
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি এক বিবৃতিতে বলেন,
“ছাত্ররা আজ দেখিয়ে দিয়েছে, চাঁদাবাজি, সহিংসতা ও দখলদার রাজনীতির দিন শেষ। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম এখন মেধা, নৈতিকতা ও আদর্শের রাজনীতি চায়।”
তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক পরিশ্রম, পাঠচক্র ও নীতি–নিষ্ঠ রাজনীতিই তাদের এই সাফল্যের মূল চালিকা শক্তি।
🔹 বিরোধী সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে ছাত্রদল ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব ও নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতার কারণে তারা পূর্ণভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারেনি।
তবে তারা ভবিষ্যতে “গঠনমূলক রাজনীতির মাধ্যমে” পুনরায় ক্যাম্পাসে অবস্থান ফিরে পাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতিতে এই ফলাফল এক নতুন প্রজন্মের মানসিক পরিবর্তনের প্রতিফলন। শিক্ষার্থীরা এখন “বক্তৃতা নয়, ভিশন” চায়—এবং এই নির্বাচনের ফলাফল সেই বার্তাই দিচ্ছে।
একজন শিক্ষাবিদ মন্তব্য করেন,
“যারা সংগঠন নয়, চিন্তা ও চরিত্র দিয়ে নেতৃত্ব দিতে পারে, তারাই এখন তরুণদের কাছে গ্রহণযোগ্য।”
চারটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে ইসলামী ছাত্রশিবিরের এই জয়কে কেউ দেখছেন “মেধার রাজনীতির জাগরণ” হিসেবে, কেউ বলছেন “বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের নতুন ইঙ্গিত”।
যেভাবেই দেখা হোক, ছাত্র রাজনীতিতে এটি নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক মোড়ফেরার মুহূর্ত।