সিলেট বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নিয়ে বিএনপির বৈঠক: ঐক্যের বার্তা ও শৃঙ্খলার নির্দেশ

সিলেট বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মোট ১২৯ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সকল নেতাকে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে সংগঠন শক্তিশালী করা এবং ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে সতর্ক করেন, প্রার্থীতার প্রচারণা করতে গিয়ে যেন অভ্যন্তরীণ বিরোধ তৈরি না হয়। এমন কিছু ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দলীয় সর্বোচ্চ শাস্তি প্রয়োগ করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি আসনে ত্যাগী, যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতাকেই চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেওয়া হবে। একজন প্রার্থী নির্ধারিত হলে বাকিদের দায়িত্ব হবে তাকে বিজয়ী করা।”
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার ১৯ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। বৈঠক শেষে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট-৩ আসনের প্রার্থী আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “আজকের বৈঠকে মহাসচিব মূলত দলীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত কাউকে বাদ দেওয়া হয়নি, আবার কাউকেও চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।”
বৈঠক শুরুর আগে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও হবিগঞ্জের প্রার্থী জি কে গউছ জানান, বৈঠকটি জেলা ওয়ারি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “ঢাকায় এখন সিলেটের অসংখ্য নেতা রয়েছেন, যেদিকে তাকাই সেদিকেই এক একজন এমপি প্রার্থী।”
বিএনপির একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগের এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এবং মাঠ পর্যায়ে প্রতিযোগিতা ঠেকানো। দলীয় প্রতীক বা প্রচারণা নিয়ে যেন কোনো বিভাজন না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “আজকের বৈঠকে মনোনয়ন চূড়ান্ত করার কোনো আলোচনা হয়নি। সবাইকে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে দলীয় হাইকমান্ড যে সিদ্ধান্ত নেবে, সবাইকে তা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।”
দলীয় সূত্র আরও জানায়, এবারের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় বিএনপি তথ্যভিত্তিক যাচাই-বাছাই ব্যবস্থা চালু করেছে। প্রতিটি প্রার্থীর ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক ও সামাজিক তথ্য একটি ডিজিটাল ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সেখানে পাঁচটি যোগ্যতার মানদণ্ড— ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, জনপ্রিয়তা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সামাজিক প্রভাব; এবং পাঁচটি অযোগ্যতার মানদণ্ড— বিদ্রোহী কর্মকাণ্ড, ফৌজদারি মামলা, প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, দুর্নীতি ও জনঅগ্রহণযোগ্যতা— এর ভিত্তিতে প্রার্থীদের স্কোর নির্ধারণ হচ্ছে। এই র্যাংকিং অনুসারে মনোনয়ন কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
এছাড়া প্রতিটি আসনে একজনকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তবে বিকল্প হিসেবে আরও দুইজনের নাম সংরক্ষিত থাকবে। যদি নির্বাচিত প্রার্থীর কোনো কারণে সমস্যা দেখা দেয়, বিকল্প তালিকা থেকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। যাঁরা এবার মনোনয়ন পাবেন না, তাঁদেরকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতিতে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হবে।
বিএনপির সূত্র বলছে, শনিবার থেকেই সিলেট বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ঢাকায় ডেকে আনা হয়েছিল। বৈঠকে প্রতিটি আসনের সাংগঠনিক অবস্থা, মাঠ পর্যায়ের জনপ্রিয়তা, ভোটার সংযোগ ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।