উগ্র হিন্দুত্ববাদ, ইসলাম অবমাননা ও রাষ্ট্রীয় নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে ‘ইন্তিফাদা বাংলাদেশ’-এর ৫ দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ।

ঢাকা, ২৩ অক্টোবর ২০২৫:
দেশব্যাপী ইসলামবিদ্বেষ, মুসলিম নারীদের ওপর হামলা, কুরআন অবমাননা এবং টঙ্গী টিএনটি মসজিদের ইমাম মাওলানা মহিবুল্লাহ মিয়াজীর অপহরণের প্রতিবাদে আজ রাজধানীতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ইন্তিফাদা বাংলাদেশ (Intifada Bangladesh)। সমাবেশে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, আলেম সমাজ, শিক্ষার্থী, তরুণ এবং সাধারণ নাগরিকরা উপস্থিতি ছিলেন।
বক্তারা বলেন— “আমরা রাষ্ট্রকে জানাতে চাই, প্রশাসনকে জানাতে চাই, হিন্দুত্ববাদী উস্কানিদাতাদের জানাতে চাই—আমরা আর চুপ থাকব না। ইসলামবিদ্বেষ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে এদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াবে।”
তারা আরও বলেন— “নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কুরআন অবমাননা, ইউআইইউ–তে ইসলাম নিয়ে উপহাস, গাজীপুরে মুসলিম মেয়ের ওপর দলবেঁধে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে পুলিশের অফিসিয়াল পেজ থেকে ভিকটিমকে দায়ী করা, ইসকন নিয়ে বক্তব্য দেবার পর ঈমাম অপহরন —এসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় প্রোথিত ইসলামবিদ্বেষেরই প্রকাশ।”
বক্তাদের মতে, “রাষ্ট্র ও সুশীল সমাজ নীরব, মিডিয়াও দৃষ্টিকটুভাবে ঘটনাগুলো না দেখার ভান করছে। মুসলিম নারীর সম্মান ও ইসলামের মর্যাদা যেন কারও কাছে আর মূল্যবান নয়।”
ইসকন ও হিন্দুত্ববাদী নেটওয়ার্কের প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন— “ইসকনের মতো সংগঠনগুলো ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেটওয়ার্কের অংশ। তারা মুসলমানদের উস্কানি দিচ্ছে, নারীদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, কুরআন ও রাসূল ﷺ–এর অবমাননা করছে। অথচ প্রশাসন নির্বিকার।”
তারা জোর দিয়ে বলেন— “আমরা কারও ধর্মের বিরুদ্ধে নই। আমাদের লড়াই ইসলাম অবমাননা, উগ্র হিন্দুত্ববাদ ও কাঠামোগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে।”
রাজনীতি ও মিডিয়ার নৈতিক ব্যর্থতার দায় দিয়ে বক্তারা বলেন— “নির্বাচনের সময় অনেক দল ইসলামী আবেগের আশ্রয় নেয়, কিন্তু যখন কুরআন অবমাননা হয় বা মুসলিম নারী আক্রমণের শিকার হন, তখন তাদের দেখা যায় না।”
তারা আরও বলেন— “মিডিয়ার নীরবতা ও বিকৃত উপস্থাপন আসলে অপরাধীদের পক্ষ নেয়ার শামিল। এই নৈতিক ভ্রষ্টতা সমাজে অন্যায়ের সংস্কৃতি তৈরি করছে।”
জনগণকে আহ্বান জানিয়ে বক্তারা আহ্বান জানান— “প্রত্যেক মসজিদের খুতবায় অন্যায় ও ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে কথা বলুন। কর্মস্থলে ও শিক্ষাঙ্গনে প্রতিবাদের আওয়াজ তুলুন । পাড়া-মহল্লায় সংগঠন গড়ে তুলুন, যেন কোনো মুসলিম নারী আক্রান্ত হলে তাঁর পাশে দাঁড়াতে পারেন।”
তাঁরা আরও বলেন— “যে রাজনীতিবীদ ভোট চাইতে আসবে, তাকে প্রশ্ন করুন—‘কুরআন অবমাননা, ইসলামবিদ্বেষ ও মুসলিম নারীর ওপর আক্রমণ বিষয়ে আপনার অবস্থান কী?’
বিচার ও জবাবদিহিতার দাবি
বক্তারা বলেন— “আমরা প্রতিশোধ চাই না, আমরা বিচার চাই। আমরা রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা চাই। আর রাষ্ট্র যদি নীরব থাকে, জনগণই রাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনবে, ইনশাআল্লাহ।”
দাবিসমূহ
গাজীপুর ধর্ষণ ও পুলিশের ভিকটিম-ব্লেমিং ঘটনায় প্রকাশ্য ক্ষমা ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
ধর্ষক ও সহযোগীদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি।
টঙ্গীর খতীব মাওলানা মহিবুল্লাহ মিয়াজীর অপহরণের স্বচ্ছ তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেফতার।
ইসকনের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনে নিষিদ্ধ ঘোষণা।
ইসলাম অবমাননা ও ইসলামবিদ্বেষবিরোধী জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন এবং শিক্ষা, প্রশাসন ও মিডিয়ায় বাধ্যতামূলক বাস্তবায়ন।
রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় ইসলামবিদ্বেষ সরকারিভাবে স্বীকার করে তা সংশোধনের পদক্ষেপ গ্রহণ।
ইন্তিফাদা বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন— “আমাদের ঈমান, আমাদের পরিচয়, আমাদের দ্বীন, আমাদের রাসূল ﷺ–এর সম্মান, আমাদের মা–বোনদের মর্যাদা নিয়ে এই খেলা আর চলবে না। আমরা আর চুপ থাকব না।”