মুরাদনগরে মাছ চুরির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গাছে বেঁধে পেটালেন জামায়াত নেতা

কুমিল্লার মুরাদনগরের পাহাড়পুর গ্রামে মাছ চুরির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে গাছে বেঁধে বেধড়ক পিটিয়েছেন স্থানীয় জামায়াত নেতা মো. হাকিম ও তার সহযোগী ইকরাম। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর (শুক্রবার) মাছ চুরির অভিযোগে হাকিমের নির্দেশে আরমান হোসেন ও সামু সেনকে ডেকে আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা চুরি করার কথা স্বীকার করলে, হাকিম বিষয়টিকে “সামাজিক শৃঙ্খলাভঙ্গ” বলে দাবি করে দুজনকে প্রকাশ্যে শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর ইকরাম তাদের গাছে বেঁধে ফেলেন এবং হাকিম ও ইকরাম মিলে তাদের বেধড়ক প্রহার করেন।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, এলাকায় মাঝে মাঝে মাছ চুরির ঘটনা ঘটে থাকলেও, কাউকে প্রকাশ্যে বেঁধে মারধরের ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। তাদের দাবি, ঘটনাটি ছিল উদ্দেশ্যমূলক—ব্যক্তিগত আধিপত্য প্রদর্শনের জন্যই এমনটি ঘটানো হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কামাল বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমি নিজে প্রতিহত করি এবং গ্রাম্যভাবে মিমাংসার ব্যবস্থা করি।” তিনি জানান, ৪ নভেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুরে গ্রাম্য সালিশে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা ব্যয় ও কিছু নগদ অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা ও তার সহযোগীদের সতর্ক করা হয়েছে যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে।
মুরাদনগর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “আমরা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত। তবে এখন পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”