জামায়াত প্রার্থীর ছেলে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান।

বরিশাল-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর ছেলে ও কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা আরাফাত বিল্লাহ খান প্রকাশ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ধানের শীষে ভোট চেয়ে তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৮ নভেম্বর) বরিশালের গৌরনদী পাইলট স্কুল মাঠে বিপ্লব ও সংহতি দিবসের এক সভায় বক্তৃতাকালে আরাফাত বিল্লাহ বলেন, “আমার বাবা হাফেজ কামরুল ইসলাম খান জামায়াতে ইসলামী থেকে বরিশাল-১ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন। কিন্তু আমি বিএনপির রাজনীতিকে ভালোবাসি এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শেই আজীবন বিশ্বাস করব। এর বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই।”
ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, “যদি কেউ বলে, আপনারা যে বিমানে উঠেছেন, সেই বিমানের পাইলট ইউটিউব দেখে উড়ানো শিখেছে—তাহলে কি সেই বিমানে উঠবেন? আমাদের স্বপন ভাই দুই দুইবারের সংসদ সদস্য, তার অভিজ্ঞতা আছে। তাই সুরক্ষার স্বার্থে আমরা স্বপন ভাইকেই (বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন) বিজয়ী করব।”
আরাফাতের এই বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার পর দলে অস্বস্তি দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে রবিবার (৯ নভেম্বর) জামায়াত প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মো. কামরুল ইসলাম খান ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে লেখেন,
“আমার বড় ছেলে আরাফাতকে শিবির করানোর অনেক চেষ্টা করেছি, পারিনি। আমি একজন ব্যর্থ পিতা। জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ার কারণে আমি আমার বড় ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলাম।”
পরবর্তীতে কেন্দ্রের নির্দেশে তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন।
এ বিষয়ে কামরুল ইসলাম জানান, “ফেসবুক পোস্টের বিষয়টি সত্য। কেন্দ্রের নির্দেশে প্রথম পোস্টটি মুছে ফেলেছি। আমার ছেলে যা-ই বলুক, তাতে ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না।”
এর আগে শনিবার (৮ নভেম্বর) আরেক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “আমাকে পিতা পরিচয় দিয়ে বিএনপির পক্ষ নিয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে তাতে কেউ হতাশ হবেন না। আমরা দাঁড়িপাল্লা মার্কা নিয়ে মাঠে নেমেছি, বিজয়ের মালা জামায়াতে ইসলামীর হবেই।”
ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষত জামায়াত ও বিএনপির মিত্র সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে পিতা-পুত্রের প্রকাশ্য অবস্থান দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।