আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়া অলিউল্লাহ জনিকে তুলে নিয়ে ৩ দিন ধরে আটকে রেখেছে ডিবি।

মানবাধিকার সংগঠন ভয়েস অব এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স (VOED) তাদের এক সদস্য অলিউল্লাহ জনির আইনবহির্ভূত আটকের অভিযোগ তুলেছে। সংগঠনটি বলছে, গত ৩০ ডিসেম্বর ভোর ছয়টার দিকে বাসা থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশে বের হয়ে তিনি আর ফিরে আসেননি।
VOED-এর বিবৃতিতে বলা হয়, পরিবারের পক্ষ থেকে রামপুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ জানায়, অলিউল্লাহ জনিকে গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) গ্রেফতার করেছে—এ কারণে জিডি গ্রহণ করা হয়নি। পরে ডিবি অফিসে যোগাযোগ করলে একপর্যায়ে তারা স্বীকার করে যে, অলিউল্লাহ জনি ৩০ ডিসেম্বর থেকেই ডিবি হেফাজতে রয়েছেন।
সংগঠনটির দাবি, এখনো পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি এবং তাকে কোনো জেলখানায় পাঠানোও হয়নি। পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। VOED এটিকে সুস্পষ্টভাবে আইনের লঙ্ঘন এবং গুমের অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অলিউল্লাহ জনি ‘রেপিস্ট আলেপ উদ্দিন’সহ সাবেক হাসিনা সরকারের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এই আইনবহির্ভূত আটক প্রক্রিয়া এসব ব্যক্তির বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে কি না—তা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে বলে মত প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
এছাড়া জুলাই আন্দোলনের একটিভ সদস্য সুরভী এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের হবিগঞ্জের সমন্বয়ক মাহাদির গ্রেফতারকেও ‘গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ’ বলে উল্লেখ করেছে VOED।
অলিউল্লাহ জনির নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে সংগঠনটি তার অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানায় এবং এ ধরনের অবৈধ আটক ও গোপন হেফাজতের তীব্র নিন্দা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, “অগাস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশে কোনোভাবেই হাসিনা কায়দায় গুম ও অবৈধ গ্রেফতার মেনে নেওয়া হবে না।”
VOED স্পষ্ট করে জানায়, কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে অপরাধে জড়িত হলে তার পক্ষে সংগঠনটির কোনো অবস্থান নেই। তবে অপরাধী যেই হোক—আওয়ামী লীগ নেতা, সন্ত্রাসী বা অন্য কেউ—আইনের বাইরে রেখে গুম করা যাবে না। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের আওতায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে, থানা বা আদালতে হস্তান্তর করতে হবে।
ডিবি হেফাজতে মামলা ছাড়া একাধিক দিন আটকে রাখা গুমের শামিল কি না এবং কোন আইনের ভিত্তিতে এ ধরনের আটক করা হচ্ছে—তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনটি।