চুয়াডাঙ্গায় সেনাবাহিনীর নির্যাতনের বিএনপি নেতার মৃত্যু: ধারাবাহিক ঘটনায় প্রশ্ন জবাবদিহিতা নিয়ে।

গতরাত (১২ জানুয়ারি) ২১.১৫ টার দিকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত ঔষধের ফার্মেসি থেকে তুলে নিয়ে যায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৬ এডি রেজিমেন্ট (টিটিসি আর্মি ক্যাম্প) এর কতিপয় সেনাসদস্য। অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান পরিচালনার কথা বলে ডাবলুকে নিয়ে যাওয়া হয় জীবননগর উপজেলা বিএনপি'র পার্টি অফিসে, সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্দয়ভাবে তাঁকে নির্যাতন করা হয়।
নির্যাতনের কারণে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা, কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন (ছবিতে দুই শিশু সন্তানের সাথে শামসুজ্জামান ডাবলু)।
এটি কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, সেনাবাহিনীর সদস্যদের এ ধরনের আচরণের সাথে আমরা বেশ পরিচিত। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে অতীতে নিজ বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের এহেন জঘন্য কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে জেলে যেতে দেখেও কোন এক কারণে তাদের মধ্যে তেমন কোন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছেনা।
খুব বেশিদিন নয়, গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৫, যশোরের কেশবপুর উপজেলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আটক কেশবপুর পৌর যুবদলের সদস্য উজ্জ্বল বিশ্বাসকে বেদম মারধর করে কারাগারে পাঠানো হয়। সেদিন রাত ৯.৩০ মিনিটে যখন উজ্জ্বলকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয় তখন ডাক্তারি সার্টিফিকেটে পাবলিক অ্যাসল্ট লিখে তাকে কারা হেফাজতে দেয়া হয়। পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ফলে উজ্জ্বল বিশ্বাসের মৃত্যু ঘটে।
এর আগে ২০২৫ এর ২১ জুলাই ভোরে রাজধানীর মিরপুরে শাহআলী থানার ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব আসিফ শিকদারকে আটক করে যৌথ বাহিনী। আটকের পর নির্যাতন করলে আসিফ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
২০২৫ এর ৩১ জানুয়ারী এমন আরেকটি ঘটনা ঘটে কুমিল্লায়, চট্টগ্রাম বন্দরে একটি শিপিং এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মী তৌহিদুর রহমান যিনি তাঁর পিতার মৃত্যুর কারণে বাড়িতে যান, তাঁকে মধ্যরাতে তুলে নিয়ে যায় যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। তৌহিদের ভাই আবুল কালাম সে সময় সংবাদমাধ্যমকে জানান, রাত আড়াইটার দিকে সেনাবাহিনীর ৩টি গাড়ি ও একটি লাল রঙের গাড়ি তাঁদের বাড়িতে এসে তৌহিদুলকে তুলে নিয়ে যায়, এবং একই দিন দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে যৌথবাহিনীর নির্যাতনের শিকার তৌহিদুল কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
এসকল ঘটনার পর সামরিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ হতে গতানুগতিক ধারায় বিবৃতি দেয়া হয়েছে, কোন ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ক্যাম্প কমান্ডারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু জড়িতদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সেসব কখনোই জানা যায়নি।
নিকট অতীতে এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার কারণে সেনাসদস্যদের কম অপদস্থ তো হতে হয়নি! অনেক পদস্থ কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে নেয়া হয়েছে, জেলে ঢোকানো হয়েছে।
এত কিছুর পরও যদি আপনাদের টনক না নড়ে এবং কোন পরিবর্তন না ঘটে তাহলে কি এভাবেই চলতে থাকবে?