বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

প্রায় ৫৩১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দাখিল করা চার্জশিট আমলে নিয়ে এ নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের অগ্রগতি জানাতে আগামী ৪ মার্চ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুদকের পক্ষে মামলার প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাতসহ মোট ২৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হলেও এর মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের একাধিক সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা, অ্যাননটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ বাদল এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পরস্পর যোগসাজশে জাল নথি ও ভুয়া হিসাব তৈরি করে জনতা ব্যাংক পিএলসি থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ আত্মসাৎ।
মামলার শুনানিকালে কারাগারে থাকা ড. আবুল বারকাতকে আদালতে হাজির করা হয়। তার পক্ষে করা জামিন আবেদন শুনানি শেষে আদালত নামঞ্জুর করেন এবং তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দুদকের চার্জশিট অনুযায়ী, শুরুতে এজাহারে আত্মসাতের অঙ্ক ছিলো প্রায় ২৯৭ কোটি টাকা। তদন্ত শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫৩১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, যা সুদসহ বর্তমানে এক হাজার ১৩০ কোটি টাকারও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঋণের অর্থ ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২০ অক্টোবর এ মামলায় ড. আবুল বারকাতসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জশিট দাখিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন। গত বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।