পঞ্চগড়ে পুশইনে ব্যর্থ হয়ে শূন্যরেখা থেকে ১০ জনকে সরিয়ে নিল বিএসএফ

পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর শূন্যরেখার কাছে টানা তিনদিন ধরে অবস্থান করা নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জনকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, রোববার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সীমান্তের ফ্লাডলাইট বন্ধ করে বিএসএফ তাদের অন্যত্র নিয়ে যায়। তবে বর্তমানে তারা কোথায় আছেন বা কোন স্থানে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে তিন শিশু, দুই নারী ও পাঁচ পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে তারা ভারতীয় অংশের শূন্যরেখার কাছাকাছি খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে থাকেন।
সীমান্ত এলাকায় অবস্থানের সময় রোদ, বৃষ্টি ও খাদ্যসংকটের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে তাদের। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা বেশি দুর্ভোগে পড়েন। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগের সৃষ্টি করে।
রোববার দুপুরে বিএসএফ আবারও ওই ১০ জনকে বাংলাদেশের দিকে পাঠানোর চেষ্টা করলে বিজিবি এর প্রতিবাদ জানায়। এ সময় সীমান্তে দুই বাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে যায়। পরে বিএসএফ পিছু হটলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়।
বিজিবির ঘাগড়া কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আজাদ বলেন, “বিজিবি সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত।”
এর আগে শুক্রবার কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে এবং শনিবার ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পৃথক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকগুলোতে কোনো সমাধান আসেনি। বিজিবির দাবি, ওই বৈঠকগুলোতে বিএসএফ আটকে থাকা ব্যক্তিদের নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।