জামায়ত নির্বাচিত হলে সরকারি প্লট, বিনা ট্যাক্সের গাড়ি নেবে না।

আগামীতে জামায়াতে ইসলামীর যারা নির্বাচিত হবেন, তারা সরকারি প্লট ও বিনা ট্যাক্সের গাড়ির সুবিধা নেবে না। তেলা মাথায় তেল দেব না। সব পরিষেবায় বঞ্চিতরা অগ্রাধিকার পাবেন। শুক্রবার সকালে রাজধানীর মিরপুরের মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ইনসাফের দেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামী একা পারবে না, সেজন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। অতীতকে ভুলে আগামীতে জনগণের ভাগ্য নির্ধারণে জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে, পাঁচ বছরে বাংলাদেশে চেহারা পালটে যাবে। ভয়-শঙ্কামুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে জনগণকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাশে থাকার আহ্বান জানাই।
তিনি আরও বলেন, আগামীতে জামায়াতে ইসলামীর যারা নির্বাচিত হবেন, তারা সরকারি প্লট ও বিনা ট্যাক্সের গাড়ির সুবিধা নেবে না। তেলা মাথায় তেল দেব না। সব পরিষেবায় বঞ্চিতরা অগ্রাধিকার পাবেন।
গত ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন ডা. শফিকুর রহমান। ২৯ জুলাই রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে এনজিওগ্রাম করালে চিকিৎসকরা তার হার্টের তিনটি প্রধান রক্তনালিতে ব্লক ধরা পড়ার কথা জানান। এরপর ২ আগস্ট দেশের একটি হাসপাতালে জামায়াত আমিরের বাইপাস সার্জারি হয়।
এ ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দেশের হাসপাতালে নিজের চিকিৎসা নেওয়ার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসা নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল যারা হাঁচি-কাশি দিলেই বিদেশে যায়, সেটির প্রতিবাদ। রাজনৈতিক মহলের বন্ধুদের বলবো, যে চিকিৎসা একেবারেই বাংলাদেশে প্রাপ্যতা নাই তাহলে সেই চিকিৎসার জন্য যান আপত্তি নাই। কিন্তু যে চিকিৎসা দেশেই রয়েছে তার জন্য যাওয়া উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, আপনি দেশ বদলাবেন, জাতিকে সোনালী স্বপ্ন দেখাবেন, আগামীর সোনার বাংলা গড়বেন আর দেশ এবং দেশের চিকিৎসা আপনার পছন্দ হবে না, তাহলে আপনাকে সমর্থন করি না। আপনি যেদিন কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ দেশে চিকিৎসা নেবেন, সেদিন উপলব্ধি করবেন আমাদের চিকিৎসায় কোথায় কোথায় ফাঁকফোকর রয়েছে। তখনই কেবল আপনার পক্ষে চিকিৎসার পেটার্ন পরিবর্তন করা সম্ভব।