সিলেট-৬ আসনে মাঠে রয়েছেন বিএনপির ৯ জন, জামায়াতের ১ জন সহ ১৫ জন প্রার্থী।

সিলেট-৬ আসন গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার দুটি উপজেলায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হতে মাঠে আছেন বিএনপির ৯ জন, জামায়াতের ১ জন, অন্যান্য দলের ৫ জন।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ৯ জন প্রার্থীই নিজ নিজ পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপি নেতা ফয়সল আহমদ চৌধুরী। ঐ নির্বাচনে তিনি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বিরুদ্ধে এক লাখের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ ঐ নির্বাচনে ভোট কারচুপি করায় তিনি বিজয়ী হতে পারেননি। কিন্তু তিনি এলাকা ছেড়ে যাননি, এলাকায় মানুষের আস্থা অর্জনে কাজ করেছেন। জুলাই গণঅভ্যূত্থানে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে তিনি প্রশংসা ও কুড়িয়েছেন।
এছাড়াও আসনটিতে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নিয়মিত দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম। আওয়ামীলীগের কঠিন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন, আওয়ামী লীগের ভয় যখন কেউ দায়িত্ব নিতে চায়নি, তখন তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের নেতাকর্মীদের হামলা- মামলায় পাশে দাঁড়িয়েছেন। দলের জেলা কিংবা ইউনিয়নের সদস্যদের জন্য নিজেকে উজাড় করে অর্থ, সময়, সহায়তা ও সহানুভূতি দিয়েছেন।
আরেক ত্যাগী নেতা, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিয়ে এখন জেলা বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দুঃসময়ে রাজপথে আন্দোলন করছেন, রাজপথে রক্ত ঝরিয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অসহায় ছাত্রছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করছেন। অসহায়দের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প করে ঔষধ- খাবার সহ যাবতীয় ব্যায়ভার বহন করছেন।
এছাড়াও রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিজেদের প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক উপদেষ্টা অহিদ আহমদ।
যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি মরহুম কমর উদ্দিনের মেয়ে সাবিনা খান। ১/১১ এর সময় তারেক রহমান লন্ডনে যাওয়ার পর থেকে কমর উদ্দিন তারেক রহমানকে সকল ধরনের সহযোগিতা করছেন।
আরো আছেন সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়ার মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন। এমপি বাবা মরহুম লেচু মিয়ার অবদান অনস্বীকার্য । বাবার মত এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যেতে তিনিও বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছেন।
এছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে রয়েছেন জেলা বিএনপির সহশিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক তামিম ইয়াহইয়া ও জাসাসের আহ্বায়ক চিত্র নায়ক হেলাল খান।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে নিষিদ্ধ হওয়ার ফলে আগামী নির্বাচনে বিএনপির মুল প্রতিদ্বন্দ্বি এক সময়ের জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম। ইতিমধ্যে আসনটিতে জামায়াত নতুন মুখ হিসেবে ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বিগত দিনের প্রার্থী, জেলা জামায়াতের বর্তমান আমির মাওলানা হাবিবুর রহমানকে সিলেট-১ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে।
প্রার্থী ঘোষনার পর থেকে সেলিম উদ্দিন কেন্দ্রের পাশাপাশি এলাকায় বেশি সময় পার করছেন। গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় তিনি দলীয় কর্মকান্ডের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সাথেও মতবিনিময় করছেন। দলীয় অবস্থান ও জনগণকে আপন করে টেনে নেয়ার ব্যক্তিত্ব, স্বল্প সময়ে এলাকায় নিজের অবস্থান শক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন।
ইতোমধ্যে বিগত সরকারের আমলে উন্নয়ন বঞ্চিত এলাকায় সরকারি বরাদ্দ নিয়ে আসতে ব্যাপক কর্ম তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের ভবন, গোলাপগঞ্জ- বিয়ানীবাজারে নদীভাঙনের কবলে পড়া এলাকায় বরাদ্দ ও দুই উপজেলার প্রায় ২৭টি রাস্তা সংস্কার ও নির্মাণের বরাদ্দ আদায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। সিলেট- সুতারকান্দি ৬ লেন প্রকল্প পুনরায় ফিরিয়ে আনা ও দুটি ব্রিজ রিশিডিউল সহ যে কোন ধরনের উন্নয়ন পিছিয়ে পড়া কাজের জন্য সরকারি বরাদ্দ আনতে সচেষ্ট রয়েছেন।
জামায়াতের একক প্রার্থীর বিপরীতে মাঠে রয়েছেন
বিএনপির ৯ জন প্রার্থী। দলীয় কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় আগামী সংসদ নির্বাচনে যেখানে বিএনপি নির্ভার থাকার কথা, সেখানে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর কারনে নেতাকর্মীরা একটু অস্বস্তিতে পড়েছেন।
এছাড়াও আসনটিতে ইসলামী দলগুলোর প্রার্থীরা হলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের হাফেজ মাওলানা মো. ফখরুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের মাওলানা সাদিকুর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা রফিকুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের আজমল হোসেন নিজ-নিজ দলের প্রার্থী হিসেবে কাজ করছেন। নুরুল হক নুরের গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী মাঠে রয়েছেন।
তবে এই আসটিতে আওয়ামী লীগের বিশাল একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। এই আসনে আওয়ামীলীগ ছয় বার, বিএনপি দুইবার, একবার জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এরমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দুইবার বিজয়ী হওয়া ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচুমিয়া পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগ দেন।