চাঁদা না দেওয়ায় স্কুলে শিক্ষিকাকে জুতো পেটা করলেন বিএনপি নেতা।

রাজশাহীর দুর্গাপুরে একটি কলেজে চাঁদা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে শিক্ষকদের সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অধ্যক্ষসহ অন্তত পাঁচজন শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দাউকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী, ১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মো. এজদার ও ২ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আফাজ উদ্দিনসহ কয়েকজন নেতাকর্মী ইসলামী জালসার দাওয়াত কার্ড দিতে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের কক্ষে যান। এ সময় তারা স্থানীয় একটি মসজিদের উন্নয়নের জন্য অনুদান বা চাঁদা দাবি করেন।
এসময় কক্ষে উপস্থিত ইংরেজির শিক্ষিকা আলিয়া খাতুন ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে শিক্ষিকা আলিয়া খাতুন আকবর আলীকে থাপ্পড় মারলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে আকবর আলী স্যান্ডেল দিয়ে ওই শিক্ষিকাকে মারধর করেন। ভিডিওতে এ ঘটনার কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, প্রথম দফার সংঘর্ষের পর আকবর আলীর নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী পুনরায় কলেজে প্রবেশ করে হামলা চালায়। তারা অধ্যক্ষ ও শিক্ষিকাসহ কয়েকজন শিক্ষককে মারধর করে এবং কলেজে ভাঙচুর চালায়। এতে অন্তত পাঁচজন শিক্ষক আহত হন। গুরুতর আহত অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও শিক্ষিকা আলিয়া খাতুনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, হামলার সময় কলেজে ডিগ্রি পরীক্ষা চলছিল এবং ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকা সত্ত্বেও এ হামলা হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দুর্গাপুর থানার ওসি পঞ্চনন্দ সরকার বলেন, তারা জালসার দাওয়াত দিতে গিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি, তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।