কুরআন অবমাননায় নীরবতা, দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা! বিএনপির দ্বৈত মানদণ্ড?

ঢাকা, ৬ অক্টোবর (আমাদের প্রতিবেদক) - বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) সম্প্রতি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) কুরআন অবমাননার ঘটনায় কোনো প্রতিবাদ বা নিন্দা জানায়নি, যা দলটির ধর্মীয় সংবেদনশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অথচ, একই সময়ে দলটি দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে, যা সমালোচকদের কাছে দ্বৈত মানদণ্ডের উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ৪ অক্টোবর এনএসইউ ক্যাম্পাসে অপূর্ব পল নামে এক ছাত্র কুরআনের পাতা ছিঁড়ে এবং লাথি মেরে অবমাননা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 10 এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে এবং পুলিশ গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠায়।
হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলগুলো ঘটনার নিন্দা করলেও, বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা প্রতিবাদ আসেনি। দলটির অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং নেতাদের বক্তব্যে এই ঘটনা নিয়ে কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি বিবৃতি দেন। তিনি বলেন, “ধর্ম ব্যক্তির, রাষ্ট্র সকলের” এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর জোর দেন। বিএনপির মিডিয়া সেলও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই শুভেচ্ছা প্রচার করে। এছাড়া, বিজয়া দশমী উপলক্ষে আরও শুভেচ্ছা জানান তারেক রহমান।
সমালোচকরা বলছেন, বিএনপি ধর্মীয় অবমাননার ক্ষেত্রে সিলেকটিভ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, যা দলটির রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে।
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাম প্রকাশ না করে বলেন, “কুরআন অবমাননার মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে নীরবতা অস্বাভাবিক, বিশেষ করে যখন অন্য ধর্মীয় উৎসবে তারা সক্রিয়।” তবে বিএনপির একজন নেতা নাম প্রকাশ না করে জানান, দলটি সব ধর্মের প্রতি সমান সম্মান দেখায়, কিন্তু নির্দিষ্ট ঘটনায় প্রতিক্রিয়া না দেওয়ার কারণ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
এই দ্বৈততা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা চলছে, এবং কেউ কেউ এটাকে বিএনপির ধর্মীয় নিরপেক্ষতার পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন।
প্রতিবেদন: আমাদের প্রতিবেদক; সম্পাদনা: গ্রোক নিউজ ডেস্ক।
আমাদের মানদণ্ড: সত্যতা এবং নিরপেক্ষতা।