এই ক্যাঙ্গারু আদালতের ফলাফল যেমন অনুমানযোগ্য, তেমনি অযৌক্তিকঃ টিউলিপ সিদ্দিকী।

প্লট দুর্নীতির মামলায় বাংলাদেশের আদালতের দেওয়া রায়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। সোমবার রায় ঘোষণার পরপরই ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “পুরো প্রক্রিয়াটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল ত্রুটিপূর্ণ ও প্রহসনমূলক”।
টিউলিপ বলেন, “এই ক্যাঙ্গারু আদালতের ফলাফল যেমন অনুমানযোগ্য, তেমনি অযৌক্তিক। আমি আশা করি এই তথাকথিত রায় যে অবজ্ঞা পাওয়ার যোগ্য, তা পাবে। আমার মনোযোগ সবসময়ই হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেটের ভোটারদের প্রতি। বাংলাদেশের এই নোংরা রাজনীতি আমাকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।”
মামলা ও রায়
ঢাকার আদালত সোমবার টিউলিপ সিদ্দিককে প্লট দুর্নীতির মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। অভিযোগ—ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষ প্রভাব খাটিয়ে তার মা, ভাই ও বোনের জন্য সরকারি জমি প্রাপ্তিতে সহায়তা করেছিলেন তিনি। একই মামলায় তার মা শেখ রেহানাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় টিউলিপ, শেখ রেহানা বা শেখ হাসিনা—কেউই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। অনুপস্থিতি ও নিরাপত্তা-ঝুঁকির কারণে তাদের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্বও সম্ভব হয়নি। আদালতে উপস্থিত হতে চাওয়া এক আইনজীবী অভিযোগ করেন, তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং গৃহবন্দি রাখা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের অবস্থান
যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে কোনও প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় টিউলিপের সাজা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। লেবার পার্টিও বিবৃতিতে জানায়, তারা এই রায়কে স্বীকৃতি দেয় না, কারণ টিউলিপ সিদ্দিককে সুষ্ঠু আইনি প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
টিউলিপের দাবি
অভিযোগ অস্বীকার করে টিউলিপ আগেই বলেন, প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত অধিকাংশ প্রমাণ “ভুয়া”। তিনি দাবি করেন, শৈশব থেকে তিনি বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করেননি এবং বাংলাদেশে কখনও কর দেননি—তবুও তাকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে পাসপোর্ট ও ট্যাক্স আইডি দিয়ে বিচার করা হয়েছে।
উভয় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই রায়ের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছেই।