চাঁদাবাজ, তুমি ভয় পেয়ো না। তোমার হাতেও আমরা সম্মানের কাজ তুলে দেবঃ জামাত আমির।

গাইবান্ধা, শনিবার—চাঁদাবাজদের হাতে সম্মানের কাজ তুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, চাঁদাবাজরা যেন আর সমাজে মুখ লুকিয়ে চলতে বাধ্য না হয়—এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।
শনিবার গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার এস এম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি বলেন, “চাঁদাবাজ, তুমি ভয় পেয়ো না। তোমার হাতেও আমরা সম্মানের কাজ তুলে দেব। সমাজে তোমাকে আর মুখ ঢেকে চলতে হবে না। কেউ তোমার মা–বাবাকে চাঁদাবাজের মা–বাবা বলবে না, স্ত্রীকে কেউ চাঁদাবাজের স্ত্রী বলবে না। সম্মানের সঙ্গে সমাজে বসবাস করতে পারবে।”
তবে একই সঙ্গে চাঁদাবাজি নির্মূলের ঘোষণা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার দুটি প্রধান কারণ রয়েছে—মধ্যস্বত্বভোগী ও ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি। “আমরা সব চাঁদাবাজদের নির্মূল করব,” বলেন তিনি।
উত্তরবঙ্গের নদীগুলোর বর্তমান অবস্থাকে ‘মরুভূমি’ ও ‘কঙ্কালসার’ উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, নদীর জীবন ফিরে এলে উত্তরবঙ্গের জীবনও ফিরে আসবে। সরকার গঠন করতে পারলে তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের সব নদী পুনরুজ্জীবনে একটি মহাপরিকল্পনা নেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, “গোটা নর্থ বেঙ্গলকে আমরা একটি কৃষিভিত্তিক রাজধানীতে পরিণত করতে চাই।”
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনো আধিপত্যবাদের ছায়া দেখতে চান না তারা। বিশ্বের সব সভ্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে, তবে কেউ বাংলাদেশের ওপর খবরদারি করবে—এটি মেনে নেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, গত ৫৪ বছরের রাজনৈতিক শাসন ও ব্যবস্থাপনা দেশবাসীকে ফ্যাসিবাদ উপহার দিয়েছে, যা আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আগামী ১২ তারিখ একসঙ্গে গণভোট ও সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গণভোট সফল হলে সাধারণ নির্বাচনও সফল হবে। জুলাই শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উত্তরবঙ্গকে কৃষির উর্বর ক্ষেত্র উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, এ অঞ্চলে একাধিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন, যেখানে গাইবান্ধা অগ্রাধিকার পাবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক ইপিজেড প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন তিনি। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানিযোগ্য করে তুলতেই এই ইপিজেড গড়া হবে বলে জানান।
সমাবেশ শেষে গাইবান্ধার পাঁচটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান।