অতীতে যে সকল আলেমগণ নৌকা ও ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেছেন, তাদেরকে কি গোমরা ফতোয়া দেওয়া হয়েছিল?

ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি আলী হাসান ওসামা জাতীয়তাবাদভিত্তিক রাজনীতি ও ধর্মীয় অবস্থানের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে মন্তব্য করেছেন। এক লেখায় তিনি বলেন, অতীতে অনেক আলেম আলিম লীগ বা বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন এবং নৌকা কিংবা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্যও হয়েছেন। কিন্তু তাঁদের ক্ষেত্রে কখনো জাতীয়তাবাদী, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী বা মুজিববাদী আকিদার কারণে গোমরাহির ফতোয়া দেওয়া হয়নি, কিংবা জনগণের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসের কারণে ঈমান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়নি।
মুফতি আলী হাসান ওসামা লেখায় প্রশ্ন রাখেন, এসব রাজনৈতিক মতবাদকে মুসলিম সমাজ গোমরাহি মনে করে নাকি হক হিসেবে গ্রহণ করে। তাঁর মতে, সরাসরি ইসলামের নাম ব্যবহার না করলেও যখন কোনো মতবাদ ব্যাপকভাবে ইসলামসম্মত বলে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মানুষ তা জীবনে ধারণ করে, তখন তা ঈমানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যারা সরাসরি এসব দলে যুক্ত নন, তাদের অনেকেই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা বা চাকরি রক্ষার স্বার্থে এসব রাজনৈতিক শক্তির আজ্ঞাবহ হিসেবে জীবন যাপন করছেন। এটিও জাতির জন্য ফিতনার কারণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। জাতীয়তাবাদ নিয়ে খুব কম ফতোয়া বা ওয়াজ শোনা যায় উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এসব দলের অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধেও শক্ত প্রতিবাদ কেন দেখা যায় না।
লেখায় অভিযোগ করা হয়, অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর অন্যায়কে ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে তুলে ধরে বাতিল মতবাদ ও তাদের প্রতিনিধিদের স্বাভাবিক করে তোলা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এর ফলে ধর্মপ্রাণ মানুষও সচেতনতা ছাড়াই এসব মতবাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জাতীয়তাবাদ প্রসঙ্গে কবি আল্লামা ইকবালের উদ্ধৃতি দিয়ে মুফতি আলী হাসান ওসামা বলেন, আধুনিক যুগে মানুষের তৈরি নতুন ‘ইশ্বর’-এর মধ্যে দেশভিত্তিক জাতীয়তাবাদ সবচেয়ে শক্তিশালী, যা ধর্মের বিশ্বজনীন ও উদার চেতনাকে ক্ষুণ্ন করে। তাঁর মতে, উগ্র জাতীয়তাবাদ ধর্মীয় ভ্রাতৃত্ববোধের পরিপন্থী।
লেখার শেষাংশে তিনি সতর্ক করে বলেন, ঈমান ও কুফরের সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যাওয়ার দায় এড়ানো যাবে না। দুনিয়ায় সহজে ফতোয়া দিয়ে অন্যকে বাতিল ঘোষণা করা গেলেও, পরকালে এর জবাবদিহি করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।