তারেক রহমানের বক্তব্য ঘিরে সমালোচনা ও ট্রলের ঝড় সামাজিক মাধ্যমে।

নিজস্ব প্রতিবেদক — বিভিন্ন নির্বাচনী বক্তব্যে তথ্যগত অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে একটি ব্যঙ্গধর্মী লেখা ছড়িয়ে পড়েছে। ‘জনগণের মুখোমুখি—ইন্টারপাস তারেক’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই লেখায় তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব তথ্যের তুলনা তুলে ধরা হয়েছে।
লেখাটিতে দাবি করা হয়, ফরিদপুরে সয়াবিন চাষ বেশি হয়—এমন বক্তব্যের বিপরীতে স্থানীয়ভাবে ভুট্টা চাষ বেশি হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে ইসলামের ইতিহাস প্রসঙ্গে বদর যুদ্ধ নিয়ে তারেক রহমানের মন্তব্যের সঙ্গে উটের যুদ্ধের ঐতিহাসিক তথ্যের পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে।
অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বক্তব্যেও অসঙ্গতির অভিযোগ করা হয়েছে। কুমিল্লায় ইপিজেড স্থাপন এবং উত্তরবঙ্গে তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতির বিপরীতে লেখাটিতে বলা হয়েছে, উভয় এলাকাতেই এসব প্রকল্প আগে থেকেই বিদ্যমান। এছাড়া যশোরে চিনিকল পুনরায় চালুর ঘোষণা প্রসঙ্গে দাবি করা হয়েছে, যশোরে কখনো চিনিকল ছিল না।
নারী অধিকার ও ক্ষমতায়ন নিয়ে তারেক রহমানের বক্তব্যও সমালোচনার মুখে পড়েছে। লেখাটিতে ডা. শফিকুর রহমানকে নারী-বিদ্বেষী আখ্যা দেওয়ার বক্তব্যের জবাবে তার পরিবারের নারী সদস্যদের পেশাগত পরিচয় তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে তারেক রহমানের নারীর ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতির বিপরীতে তাঁর স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানের পেশাগত বাস্তবতা উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী সময় ঘনিয়ে আসায় নেতাদের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাৎক্ষণিক যাচাইয়ের মুখে পড়ছে এবং ব্যঙ্গ ও সমালোচনার মাধ্যমে জনমত প্রকাশের প্রবণতা বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, রাজনৈতিক বক্তব্যে তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত না হলে এমন বিতর্ক আরও বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।