বান্দরবানের পাহড়ে ২৫০০ একর জায়গায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে ঘিরে প্রশ্ন

বান্দরবানের লামার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় ২,৫০০ একর বিস্তৃত এলাকাজুড়ে বছরের পর বছর ধরে সংস্থাটি নির্বিঘ্নে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু তাদের কার্যক্রম কে নিয়ন্ত্রণ বা তদারকি করে, প্রায় ১,২০০ কর্মীর মাধ্যমে সেখানে কী ধরনের প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়—এসব বিষয়ে জনসমক্ষে তেমন কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। এমনকি সাধারণ নাগরিক তো বটেই, নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদেরও সেখানে প্রবেশের জন্য অনুমতি নিতে হয় বলে জানা গেছে।
সংস্থাটির চেয়ারম্যান শহীদ আল বোখারী—যাকে অনুসারীরা ‘গুরুজি’ ও ‘মহাজাতক’ বলে সম্বোধন করেন—তার সঙ্গে কথিত ‘ছোটন গ্যাং’-এর সম্পর্কের অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়টিও সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।
এরই মধ্যে আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। ওই সমঝোতার আওতায় ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা’ কর্মসূচির নামে দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একদিনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
এই কর্মসূচির আওতায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রস্তুত করা একটি ম্যানুয়ালের ভিত্তিতে দেশের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। সংস্থাটির নিজস্ব ভেন্যুতেই এই প্রশিক্ষণ বিনামূল্যে পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ১২৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। উদ্যোগটির পক্ষে যুক্তি হিসেবে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে—কোন প্রক্রিয়ায় বা কী ধরনের মূল্যায়নের ভিত্তিতে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে এমন একটি জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, কেন একটি বেসরকারি সংস্থা বিনামূল্যে দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়ে মেডিটেশন সেশন পরিচালনা করতে আগ্রহী—এ বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
আরও একটি বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য কোনো না কোনোভাবে সংস্থাটির কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকে। সেই তথ্য ব্যবস্থাপনা জাতীয় নিরাপত্তা বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি তৈরি করতে পারে কি না—সেটিও আলোচনায় এসেছে।
দেশব্যাপী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে একদিনের মেডিটেশন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সংস্থাটি কী লক্ষ্য অর্জন করতে চায়, কারা এই উদ্যোগের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে এবং এর পেছনের নীতিগত ভিত্তি কী—এসব বিষয় নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠছে বিভিন্ন মহলে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করবেন—এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে।