পেরুর নির্বাচন কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ বাড়ছে সভাপতি নির্বাচনের গণনায় বিলম্বের কারণে

পেরুর প্রেসিডেনশিয়াল নির্বাচনের ভোট গণনা আরও ধীরগতিতে এগোচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ২০২৬ সালের ৭ জুন অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে সংরক্ষণশীল নেতা কাইকো ফুজিমোরির প্রতিদ্বন্দ্বী চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা এখনো সম্ভব হয়নি। ভোট গণনার দীর্ঘসূত্রিতা ও সংগঠনিক ত্রুটির অভিযোগের কারণে পেরুর জাতীয় নির্বাচন অফিসের (ওএনপিই) প্রধান পিয়েরো কোরভেতোর পদত্যাগের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।
সপ্তাহব্যাপী চলা ভোট গণনা প্রক্রিয়ায় পেরুর বামপন্থী প্রার্থী রোবের্তো সাঞ্চেজ ও অতিসংরক্ষণশীল প্রাক্তন লিমার মেয়র রাফায়েল লোপেজ আলিয়াগা কারুর মধ্যকার লড়াই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। শুক্রবার পর্যন্ত মোট ভোটের ৯৩.৩ শতাংশ গণনা চালু থাকার পর সাঞ্চেজ ১২.০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন এবং লোপেজ আলিয়াগা খুব নামমাত্র ব্যবধানে ১১.৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। অপরদিকে, কাইকো ফুজিমোরি ১৭ শতাংশ ভোট নিয়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছেন, যা তাকে ফাইনাল রাউন্ডে যাওয়ার জন্য সুবিধাজনক অবস্থানে রাখে।
তবে ভোট গণনার বিলম্ব ও অনিয়মের সম্ভাবনা গুরুত্ব নিয়ে দেখা হয়েছে। পেরুর জাতীয় নির্বাচন সংসদ (ওএনপিই) বলেছে, মোট ভোটের প্রায় ৫ শতাংশের মতো ব্যালট যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অপর্যাপ্ততা বা মাঠ পর্যায়ে ত্রুটির কারণে পুনঃপর্যালোচনার জন্য নির্বাচন বিশেষ জুরির কাছে পাঠানো হয়েছে। এই ব্যালটগুলো যাচাইবাছাই শেষে চূড়ান্ত গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে, যা সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। ফলে চূড়ান্ত ফলাফলের ঘোষণা দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে বলে স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সিয়া জানিয়েছে।
নির্বাচন পরিচালনায় সংগঠিত অসংগতি ও ত্রুটির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা পিয়েরো কোরভেতোর পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের সংগঠন কনফিয়েপের প্রধান জর্জে জাপাতা স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, "এত গুরুতর ত্রুটিগুলো অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।" নির্বাচনে বিলম্ব ও বিতর্ক থেকে উদ্ভূত অনিশ্চয়তা দেশের বিনিয়োগ পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন।
কোরভেতো নিজে স্বীকার করেছেন, লিমাতে নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রে লজিস্টিক জটিলতার কারণে ভোট গ্রহণের সময়সীমা এক দিন বাড়ানো হয়েছে। তবে তিনি তথ্যগত কারচুপি বা সিন্ডিকেটের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে, লোপেজ আলিয়াগা ভোট গণনা স্থগিতের আহ্বান জানিয়েও বিতর্ককে আরো তীব্র করেছেন।
পেরুর শীর্ষ নির্বাচন সংস্থা জাতীয় নির্বাচন জুরি ইতোমধ্যে কোরভেতোর বিরুদ্ধে আইনি মামলা করেছে, যেটিতে ভোটার অধিকার লঙ্ঘনের মতো অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত আছে। একই সঙ্গে, লিমার একটি সড়কে চারটি ভোটকেন্দ্রের নির্বাচনী উপকরণ পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে, যেগুলোর ভোট ইতোমধ্যেই গণনায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে ওএনপিই বলেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিশন, এখন পর্যন্ত কোনো নকল বা ভোট কারচুপি প্রমাণ করতে পারেনি। তবে দেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিবেশের অস্থিরতার কারণে ভোট গণনার বিলম্ব ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে পেরু বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকট মোকাবিলা করছে। আগামী ফলাফল দেশটির ভবিষ্যত রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।