লেবাননে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে কি?

দশকের পর প্রথমবারের মতো লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়েছে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই আলোচনার ফলে দুই পক্ষ একত্বে দশ দিনের জন্য আধেয় যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তে সম্মত হয়েছে, যা লেবানানের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান পাঠিয়ালা আক্রমণের বিরতি প্রদান করবে।
তবে ইসরায়েল এখনও লেবাননের দক্ষিণ অংশ থেকে তাদের সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত এই উচ্চস্তরের বৈঠকটি ১৯৯৩ সালের পর প্রথম সরাসরি মুখোমুখি আলোচনা হিসেবে ইতিহাসে রেকর্ডিত হবে। এই আলোচনার মাধ্যমে ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং বিমান হামলা অবসানের জন্য আশা জন্মেছে।
বৈঠকে বড় প্রশ্ন হিসেবে দাঁড়িয়েছে ইসলামি আয়তের পুনর্মূর্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকা শিয়া মিলিশিয়া দল হেজবোল্লাহর ভূমিকা। ইসরায়েল দাবি করেছে যে, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য হেজবোল্লাহকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করতে হবে এবং তাদের অস্ত্র বিসর্জন দিতে হবে। যেখানে হেজবোল্লাহ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে তারা তাদের অস্ত্র কখনও নিক্ষেপ করবে না।
এই পরিস্থিতিতে লেবাননে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কতটুকু সম্ভব হবে, তা একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ইরানের লেবাননের ওপর রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাবেরও বিষয়ে গভীরভাবে আলোচনা করেছেন। ইরানের ভূমিকাও এই সংঘাতের নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ বাধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেই।
মধ্যপ্রাচ্যের জিওপলিটিক্স বিশ্লেষক জো ম্যাকারন, চাতাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা প্রোগ্রামের সিনিয়র ফেলো ইয়োশি মেকেলবার্গ এবং আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বেইরুতের বিশিষ্ট ফেলো রামি খুরির নেতৃত্বে আলোচকরা এই সংকটের বহুস্তর বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। তাদের মতামত ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, যদিও যুদ্ধবিরতি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, তবে রাজনৈতিক মতানৈক্যের কারণে এখনো সম্পূর্ণ শান্তির পথ অনেক দূর।
বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর এখন এই যুদ্ধবিরতির যথাযথ বাস্তবায়ন এবং পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তোলার দিকে। লেবানন ও ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে গণ্য হবে যদি এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়। আগামী সপ্তাহগুলো এই নতুন অধ্যায়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে।