একাত্তরের প্রশ্নে গ্রহণযোগ্য অবস্থান না নেওয়া পর্যন্ত জামায়াতের সঙ্গে বিতর্ক চলবে: সংসদে তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, বিরোধী দলের আসনে এমন একজন ব্যক্তি আছেন, যাঁর সান্নিধ্য কারাগারে পাওয়ার সুযোগ হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ‘আমার জানামতে, তিনি ইসলামী ছাত্রসংঘ বা এ রকম একটা প্রচলিত ছাত্রসংগঠনের প্রোডাকশন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে আসেননি। তিনি তাঁর নিজস্ব চিন্তা থেকেই জামায়াতে ইসলামীকে দেখেন এবং নেতৃত্ব দেন।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে ইতিহাসের ব্যতিক্রম আখ্যা দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশের সংসদের এই যে বৈচিত্র্য, এই বৈচিত্র্যের সঙ্গে বিগত ১২টি জাতীয় সংসদের তেমন কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না।’ তিনি বলেন, অতীতে দেশের রাজনীতি মূলত দ্বিদলীয় কাঠামোয় আবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার ভোটের পরিসংখ্যান ও সংসদের চিত্র ভিন্ন বাস্তবতা নির্দেশ করছে।
জামায়াতে ইসলামীসহ ১১–দলীয় জোটের নির্বাচনী ফল নিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘জামায়াত বাংলাদেশে স্বতন্ত্রভাবে যতবার নির্বাচন করেছে, ততবারই ৫ শতাংশের মধ্যেই তার ভোট সীমাবদ্ধ ছিল। এবারের নির্বাচনে তার ভোটের পরিসংখ্যান পরিবর্তন হয়েছে।
এই প্রথম বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভোটের পরিসংখ্যান থেকে শুরু করে আমরা যদি এই সংসদের চিত্র দেখি এবং পালিয়ে থাকা ফ্যাসিবাদের সমর্থক ভোটারদের মধ্যে যাঁরা বিরাজ করেন, তাঁরা এবার কোথায় ভোট দিয়েছেন, আমরা জানি না।’ জামায়াতসহ ১১–দলীয় জোটের এবারের নির্বাচনের জাদুকরি সংখ্যা গবেষণার দাবি রাখে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
‘যদি পরাজিত আওয়ামী লীগ আবার এই সংসদে কোনো দিন ফিরে আসে, সে যদি দাবি করে যে ২৪-এর জুলাই গণহত্যার কথা বলা যাবে না, তাহলে তার গা থেকে তার হাত থেকে কিন্তু রক্তের দাগ মোছা যাবে না,’ বলেন তিনি।