
দেশের বিভিন্ন স্থানে টানা ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির ফলে পাঁচ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চলে বন্যা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিচু এলাকাগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে। বাকি তিন জেলায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় সেখানেও বন্যা দেখা দিতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বুধবার সকালে জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগামী কয়েক দিন বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছিল, পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। ইতিমধ্যে মঙ্গলবার রাত থেকে দেশের অনেক এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে, যা বুধবার সকালেও অব্যাহত রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ১৬১ মিলিমিটার। এছাড়া ভোলায় ১৫১ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, বৃষ্টি একটানা না হয়ে থেমে থেমে বিভিন্ন এলাকায় হতে পারে এবং এই প্রবণতা ৪ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে পাহাড়ি ঢলের পানিতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর তীরবর্তী শিবগঞ্জ-তেরিবাজার ঘাটের একটি কাঠের সেতু ভেঙে গেছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে ভুগাই কংস, মনু, সোমেশ্বরী ও মগরা—এই চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে মনু ছাড়া বাকি তিনটি নদী নেত্রকোনার ওপর দিয়ে প্রবাহিত।
এ ছাড়া সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও এক থেকে দেড় মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৃষ্টি কমে এলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।