
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পশু জবাইয়ে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বিজেপি সরকার। এখন থেকে অনুমোদিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সরকারি পশু চিকিৎসকের দেওয়া ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো পশু জবাই করা যাবে না। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমএনডিটিভি।
নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গরু, ষাঁড়, মহিষসহ সব ধরনের পশু জবাইয়ের আগে সনদ নিতে হবে। ওই সনদে উল্লেখ থাকতে হবে যে পশুটি জবাইয়ের জন্য উপযুক্ত। নিয়ম ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা এক হাজার রুপি জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পশুর বয়সসীমা, নির্ধারিত স্থানে জবাই এবং সরকারি অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা। সনদে নিশ্চিত করতে হবে যে পশুটির বয়স ১৪ বছরের বেশি এবং সেটি আর কাজ বা প্রজননের উপযোগী নয়। এছাড়া বয়স, আঘাত, বিকলাঙ্গতা বা অনিরাময়যোগ্য রোগের কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লেও জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া যাবে।
নিয়ম অনুযায়ী, সনদ যৌথভাবে দেবেন পৌরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং সরকারি পশু চিকিৎসক। কোনো আবেদন বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আপিল করতে পারবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, অনুমোদিত পশু শুধুমাত্র পৌরসভার কসাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসন নির্ধারিত স্থানে জবাই করা যাবে। খোলা জায়গা বা জনসমাগমস্থলে পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিয়ম বাস্তবায়নের জন্য পৌর চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সভাপতি বা পশু চিকিৎসকের অনুমোদিত কর্মকর্তাদের যেকোনো স্থাপনা পরিদর্শনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শন কাজে বাধা দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়–এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর বিজেপি সরকার এই নতুন বিধিনিষেধ জারি করলো।
াধ্যম