স্ত্রীর নামে ঋণ নিয়ে আর্জেন্টিনার পতাকা বানাচ্ছেন ‘মেসি সুমন’

সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা, পেশায় ভ্যানচালক। সংসারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে। তবে বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই যেন বদলে যান তিনি। আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা থেকে স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে নিজেকে সাজিয়েছেন আর্জেন্টিনার সমর্থকের রূপে, সাজিয়েছেন নিজের ভ্যানও। কিনেছেন ১৬টি আর্জেন্টিনার পতাকা।
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসদরের দত্তপাড়া সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা সুমন গৌড় এলাকায় ‘মেসি সুমন’ নামেই বেশি পরিচিত। আর্জেন্টিনার নীল-সাদা পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও নানা সাজসজ্জায় নিজের বসতিপাড়াকে রীতিমতো আর্জেন্টিনার একটি ছোট্ট গ্রামের আদলে গড়ে তুলছেন তিনি।
আর্জেন্টিনাকে সমর্থন জানাতে স্ত্রী আরতি রাণী ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী পূর্ণিমার নামে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন সুমন। সেই অর্থ ব্যয় করছেন পতাকা, ব্যানার, রং ও অন্যান্য সাজসজ্জার কাজে। বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য বিরিয়ানি রান্না করে আপ্যায়নেরও পরিকল্পনা রয়েছে তার।
নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই সুমনের। সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন তিনি। ভ্যান চালিয়েই চলে জীবিকা। আর্থিক সংকট থাকলেও ফুটবল এবং আর্জেন্টিনার প্রতি তার আবেগে ভাটা পড়েনি।
সুমন বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। এখন সবাই আমাকে সুমন না, ‘মেসি সুমন’ নামেই চেনে। বিশ্বকাপ এলেই আমি চেষ্টা করি আর্জেন্টিনার জন্য কিছু করতে। এটা আমার ভালোবাসা।”
তার স্ত্রী আরতি রাণী বলেন, “অনেক বছর ধরেই স্বামীর আর্জেন্টিনাপ্রেম দেখে আসছি। সংসারে অভাব আছে, তবুও বিশ্বকাপ এলে তিনি সবকিছু ভুলে যান। এত টাকা খরচ করে এসব করা পাগলামি মনে হলেও স্ত্রী হিসেবে মেনে নিয়েছি।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, সুমন অত্যন্ত দরিদ্র মানুষ। ভ্যান চালিয়ে কোনো রকমে সংসার চালালেও বিশ্বকাপ এলেই ঋণ নিয়ে এলাকায় সাজসজ্জা করেন এবং খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করেন। এ কারণেই এলাকায় তিনি ‘মেসি সুমন’ নামে পরিচিত।