সর্বশেষ
আজ সিলেট গণভোট দিবস: ১৯৪৭ সালের ৭ জুলাই ভারত থেকে আলাদা হওয়ার ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়সিলেটের সাত রঙের চায়ের স্বাদ নিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির প্রতিশোধ নিতে ৪ ভাই মিলে খুন, দাবি পিবিআইশেখ হাসিনার দেশে ফেরায় আইনি বাধা নেই: চিফ প্রসিকিউটরশনিবারের মধ্যে সব ক্লিনিকে নরমাল ডেলিভারি রুম না থাকলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রীজুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে সরকারের বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণাপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ।আজ সিলেট গণভোট দিবস: ১৯৪৭ সালের ৭ জুলাই ভারত থেকে আলাদা হওয়ার ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়সিলেটের সাত রঙের চায়ের স্বাদ নিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির প্রতিশোধ নিতে ৪ ভাই মিলে খুন, দাবি পিবিআইশেখ হাসিনার দেশে ফেরায় আইনি বাধা নেই: চিফ প্রসিকিউটরশনিবারের মধ্যে সব ক্লিনিকে নরমাল ডেলিভারি রুম না থাকলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রীজুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে সরকারের বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণাপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ।
Live Bangla Logo
নিউজ
পড়া হচ্ছে...

আজ সিলেট গণভোট দিবস: ১৯৪৭ সালের ৭ জুলাই ভারত থেকে আলাদা হওয়ার ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়

প্রকাশিত: ৭ জুলাই, ২০২৬
আজ সিলেট গণভোট দিবস: ১৯৪৭ সালের ৭ জুলাই ভারত থেকে আলাদা হওয়ার ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়



আজ ৭ জুলাই, সিলেট গণভোট দিবস। ১৯৪৭ সালের ৬ ও ৭ জুলাই ব্রিটিশ ভারতের অন্তিম সময়ে তৎকালীন আসাম প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত সিলেট জেলায় একটি ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এই গণভোটের উদ্দেশ্য ছিল—সিলেট আসামের অংশ হিসেবে ভারতে থাকবে, নাকি পূর্ববঙ্গের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হবে, সে বিষয়ে জনগণের মতামত গ্রহণ।


গণভোটের পটভূমি তৈরি হয় ১৯৪৭ সালের ৩ জুন ঘোষিত মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার (Mountbatten Plan) মাধ্যমে। সমগ্র আসাম ভারতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ সিলেট জেলার সঙ্গে পূর্ববঙ্গের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিবেচনায় এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে পৃথক গণভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


৬ ও ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। সরকারি ফলাফলে পূর্ববঙ্গের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬১৯টি এবং ভারতের সঙ্গে থাকার পক্ষে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৪১টি ভোট পড়ে। ফলে ৫৫ হাজার ৫৭৮ ভোটের ব্যবধানে পূর্ববঙ্গের পক্ষে রায় আসে।


তবে গণভোটের ফল প্রকাশের পরও পুরো সিলেট পূর্ববঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। পরবর্তীকালে সিরিল র‍্যাডক্লিফের নেতৃত্বাধীন সীমান্ত কমিশনের সিদ্ধান্তে করিমগঞ্জ মহকুমার অধিকাংশ অংশ ভারতের আসামে অন্তর্ভুক্ত হয়। অন্যদিকে সিলেট সদর, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারসহ জেলার বৃহত্তর অংশ পূর্ববঙ্গের সঙ্গে যুক্ত হয়। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট এ অঞ্চল পূর্ব পাকিস্তানের অংশে পরিণত হয় এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।


সিলেট গণভোটে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম ও রাজনীতিবিদ মাওলানা যফর আহমাদ উসমানী (রহ.)। তাঁর নেতৃত্বে আলেম-উলামা, ছাত্রসমাজ ও রাজনৈতিক কর্মীরা গণভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালান এবং জনগণকে ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করেন।


একইভাবে মাওলানা আতহার আলী (রহ.) গণভোটের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বিভিন্ন জনসভা, ধর্মীয় সমাবেশ ও গণসংযোগের মাধ্যমে তিনি জনগণের কাছে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করেন।


এছাড়া তৎকালীন মুসলিম লীগ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ছাত্রসমাজ, আলেম-উলামা এবং অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক ঘরে ঘরে গিয়ে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালান। অন্যদিকে ভারতের পক্ষে থাকার পক্ষেও সংগঠিত প্রচারণা পরিচালিত হয়। ফলে সিলেট গণভোট উপমহাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনায় পরিণত হয়।


ইতিহাসবিদদের মতে, ১৯৪৭ সালের সিলেট গণভোট এ অঞ্চলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ছিল। এই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় সিলেট পূর্ববঙ্গের অংশে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। আজ সিলেট প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রবাসী অধ্যুষিত জনপদ, শিক্ষা, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে দেশ-বিদেশে বিশেষ পরিচিতি বহন করছে।


সিলেট গণভোট দিবসে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় মাওলানা যফর আহমাদ উসমানী (রহ.), মাওলানা আতহার আলী (রহ.), গণভোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজনৈতিক নেতা, আলেম-উলামা, ছাত্রসমাজ, স্বেচ্ছাসেবক এবং সিলেটের সচেতন জনগণকে। তাঁদের অবদান সিলেটের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।