সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়াই ১৯৭৪ সালের কালা কানুনে মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে পুনরায় গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর কারামুক্ত হওয়ার মুহূর্তে জেলগেট থেকে পুনরায় গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন মহল। কোনো সুনির্দিষ্ট নতুন মামলা বা অভিযোগ ছাড়াই এভাবে বারবার গ্রেফতারকে মৌলিক মানবাধিকার ও আইনি প্রক্রিয়ার চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করা হয়েছে।
মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের (Special Powers Act, 1974) অধীনে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একজন নাগরিক যখন দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন, তখন তাকে পুনরায় আটক করা বিচার বিভাগের অবমাননার শামিল। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া ‘শোকজ’ বা পুরনো মামলায় নতুন করে সম্পৃক্ত করার এই প্রবণতা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ এবং এটি আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
মানবাধিকার কর্মী ও আলেম সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, "আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মুক্তি পাওয়ার পর কারাফটক থেকে পুনরায় তুলে নিয়ে যাওয়া অমানবিক। যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তবে তা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করা উচিত। এভাবে লুকোচুরি করে গ্রেফতার করা শুধু ওই ব্যক্তির নয়, বরং দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয়।"
তারা অবিলম্বে মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর নিঃশর্ত মুক্তি এবং তার প্রতি চলমান এই "হয়রানিমূলক আচরণ" বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে, বিনা বিচারে বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকে আটক না রাখার বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের (Special Powers Act, 1974) অধীনে গ্রেফতার করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে নরসিংদী থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তাকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে ৯০ দিনের আটকাদেশ দিয়ে তাকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়