ছাত্রদল নেতা আবিদুলের অভিযোগের জবাবে সাদিক কায়েমের ফেসবুক পোস্ট

আবিদুলের তোলা অভিযোগ নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে মধ্যরাতে সাদিক কায়েম ফেসবুকে লিখেছেন
”নির্ভরযোগ্য জাতীয় সংবাদমাধ্যম সমূহের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপি-ছাত্রদলের হাতে অন্তত ২৭১টি খুন, ৮১টি ধর্ষণ, ৩৬৬টি চাঁদাবাজি, ৫৯৬টি হামলা, ৯৭টি লুটপাট, ৯৪টি শিক্ষাঙ্গনে হামলা ও সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে।
কেবল গত মাসেই বিএনপি-ছাত্রদলের হাতে ২২টি খুন, ৬টি ধর্ষণ, ২৮টি চাঁদাবাজি, ৮০টিরও অধিক হামলা ও সংঘর্ষ, ১৮টি চুরি/ডাকাতি, ৬টি শিক্ষাঙ্গনে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিলে দেশে ৫০০টিরও অধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে। পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে কেবল ঢাকায়ই অন্তত ১৬টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।
৬৯ শতাংশ জনগণের ভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হওয়া গণভোটকে প্রত্যাখ্যান করে জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়া এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশসমূহ বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।
দেশে জ্বালানি সংকট চরম মাত্রা ধারণ করেছে। গ্রামে গঞ্জে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। অন্যায্যভাবে বাস ভাড়া বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক লুটেরাদেরকে সংসদে আইন পাশ করে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
এসকল জাতীয় সংকটের মাঝেই সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে বিগত কয়েকদিন যাবত দেশব্যাপী ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের দলীয় সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র সজ্জিত করে নামিয়ে দেয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রশিবিরের এক দায়িত্বশীলকে কুপিয়ে পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। একইভাবে পাবনায় এবং কুমিল্লায় বিনা উস্কানিতে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচিতে ছাত্রদল হামলা করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে দেয়ালে গুপ্ত লিখেও কোনোরকম প্রতিক্রিয়া না দেখে সবশেষে ভুয়া স্ক্রিনশট বানিয়ে শিবিরকর্মী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। এমনকি থানায় অবস্থানরতদের অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়েছে।
ডাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিদের উপর হামলা করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৫ জন সাংবাদিকের উপর দফায় দফায় হামলা করা হয়েছে।
এর কয়েকদিন আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও হোস্টেলে রাজনৈতিক মদদে গেস্টরুম কালচার চালু করার ঘটনা ঘটে। যেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষে আমরা স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানাই।
সম্ভবত সরকার এই প্রতিবাদী কালচারকে নিজেদের নিকট ভবিষ্যতের জন্য বড় থ্রেট মনে করছে। তাই তাদের দরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকা, এবং ক্যাম্পাসগুলো নিয়ন্ত্রণ করা।
সাদিক কায়েম ফেসবুকে লিখেছেন, ক্ষমতাসীন সরকার সব সময় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভয় পায়৷ দেশের চলমান অস্থিরতা এবং সরকারের একের পর এক ব্যর্থতায় ডাকসুর নেতাসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবস্থান জারি রেখে প্রতিবাদ করে৷ সম্ভবত সরকার এই প্রতিবাদী সংস্কৃতিকে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি মনে করছে।
তাই তাদের দরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকা এবং ক্যাম্পাসগুলো নিয়ন্ত্রণ করা৷ তারই ধারাবাহিকতায় ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খানের আনা অভিযোগের ভিত্তিতে বিএনপি ছাত্রদলের সব অপকর্ম, দেশের সব সংকট ও ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণের অপতৎপরতা—সবকিছু ঢেকে দিতে সংঘবদ্ধ অ্যাকটিভিজম দৃশ্যমান হচ্ছে।
সাদিক কায়েম লেখেন, ‘আবিদুল ইসলাম খান যে দুটি পেজের ব্যাপারে অভিযোগ এনেছেন, তা অবশ্যই সবিস্তার খতিয়ে দেখার দাবি রাখে৷ আমরা সেটি করব, ইনশা আল্লাহ।
তবে প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডিইউ ইনসাইডার্স পেজ থেকে কাউকে হেনস্তা করে কিংবা কারও বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো অপপ্রচার চালানো হয়নি বলে পেজের এডমিন দাবি করেছেন। এই পেজের নামে হুবহু একই বানানে একই প্রোফাইল পিকচার দিয়ে আরেকটি পেইজ খোলা হয়েছিল, যে পেজ থেকে ডাকসুর প্রতিনিধিদের নিয়েও আক্রমণাত্মক, অশালীন এবং হয়রানিমূলক পোস্ট করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিইউ ইনসাইডার্স নামের সেই পেইজটির বিরুদ্ধে আমরাও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলাম। তবে নাম একই হলেও দুটো পেজ ভিন্ন।’
‘ডিইউ ইনসাইডার্স’ পেজের একজন অ্যাডমিনের সঙ্গে সাদিকের কথোপকথনের স্ক্রিনশটের বিষয়ে ফেসবুক পোস্টে সাদিক কায়েম লিখেছেন, ‘ডিইউ ইনসাইডার্স পেজটির অ্যাডমিন আমার হলের ছোট ভাই। ওমরায় থাকাকালে তাঁকে প্রেরণকৃত একটি হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজের স্ক্রিনশট দিয়েও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
অথচ আমি আমার পরিচিত সিনিয়র, জুনিয়র, সহযোদ্ধা, সহকর্মী অনেককেই স্মরণ করে সে সময় ম্যাসেজ পাঠিয়েছিলাম, এমনকি স্বয়ং আবিদুল ইসলাম খানকেও৷ তিনি তার রিপ্লাইও দিয়েছিলেন। এটি ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও সৌজন্যমূলক যোগাযোগ।’
সাদিক কায়েম লেখেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল কর্তৃক ডিপার্টমেন্ট অব বাকশাল, ক্রিমিনালস ডিইউসহ বেশ কয়েকটি পেজ খোলা হয়। এরপর ডাকসু কণ্ঠস্বর নামে খোলা পেজ থেকে হেন কোনো ভুয়া ফটোকার্ড নেই, যা ছড়ানো হয়নি। পেজটির নাম পরিবর্তন করে বর্তমানে দ্য ডেইলি ডাকসু নামে চালানো হয় এবং নিয়মিত গুজব ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়।
এ ছাড়া আমার ডাকসু, আমার রাকসু, আমার চাকসু, কাঁঠেরকেল্লা, ন্যাশনালিস্ট ডে টা, মোল্লার দেশ, ন্যাশনালিস্ট ইনসাইডার, দশের লাঠি, মগবাজার, লন্ডন বিডি টিভি, রৌমারি প্রভৃতি পেজ থেকে বিগত দিনগুলোতে এমন কোনো অপপ্রচার নেই, যা করা হয়নি। এআই দিয়ে ভুয়া ছবি বানিয়ে, বিকৃত প্রচারণা চালিয়ে নানাবিধ হয়রানির অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। এর প্রত্যেকটি পেজ কারা চালায়, তা কারোর
রই অজানা নয়।
ও পড়ুন