
সুশাসনকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, যোগ্য নেতৃত্ব ও জবাবদিহিই সুশাসনের পূর্বশর্ত। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘স্পষ্ট’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ধরনের আপস করা হবে না; সততা, মেধা ও দক্ষতাই জনপ্রশাসনের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির প্রধান মানদণ্ড হবে।
রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ দেশের সব জেলা প্রশাসক ও আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জবাবদিহিমূলক, আইনসম্মত ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে প্রশাসনের কর্মকর্তারাই সরকারের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন, ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং কাজের গুণগত মান বজায় রাখার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন নতুন প্রযুক্তিনির্ভর যুগে প্রবেশ করেছে। এ বাস্তবতায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সময়োপযোগী দক্ষতা অর্জন জরুরি। অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার ওপর জোর দেন তিনি।
সরকারের গণমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়নে জনপ্রশাসনের ভূমিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।
সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি রোধে কঠোর অবস্থানের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি দপ্তরে যেন কেউ অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
এ ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদকদ্রব্য দমন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং বাল্যবিবাহ ও নারী-শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।