
চারদিনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা-রাজনীতিক থালাপতি বিজয়। শুক্রবার এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর বাসভবনের সামনে উল্লাসে মেতে ওঠেন সমর্থকেরা।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজ্যপাল আরভি আরলেকারের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানানোর কথা রয়েছে বিজয়ের। এর মধ্য দিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
৪ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। ডিএমকে ও এআইএডিএমকের দীর্ঘদিনের আধিপত্য ভেঙে বড় সাফল্য পায় বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে)। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় দলটি ১০৮টি আসন জেতে। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
রাজ্যপালের দপ্তর থেকে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ ছাড়া বিজয়কে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হবে না। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দফা বৈঠকেও রাজ্যপাল তাঁর অবস্থান থেকে সরে আসেননি। বৃহস্পতিবার তিনি বিজয়কে স্পষ্টভাবে জানান, সরকার গঠনের জন্য অন্তত ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন।
বিজয়ের কাছে তখন নিজেকে বাদ দিয়ে ১০৭ জন বিধায়কের সমর্থন ছিল। তবে শুক্রবার শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ‘ম্যাজিক ফিগার’ অর্জন করতে সক্ষম হন তিনি।
সরকার গঠনের সমীকরণ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে টিভিকে আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, ডিএমকে বা এআইএডিএমকে অনৈতিকভাবে সরকার গঠনের চেষ্টা করলে দলের ১০৮ জন বিধায়ক একযোগে পদত্যাগ করবেন।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার বিজয়ের দলকে নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দেয় ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই)। দলটির দুইজন বিধায়ক রয়েছেন। এ ছাড়া দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি জানান, সিপিএম, সিপিআই ও ভিসিকের মিলিয়ে মোট ছয়জন বিধায়ক বিজয়কে সমর্থন দিচ্ছেন।
এই সমর্থনের ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছেন বিজয়।