যুদ্ধ বিরতির মধ্যেও ইরানে হামলা চালিয়েছে আমিরাত: ওয়াল স্ট্রিট।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইরানের বিভিন্ন স্থানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কথিত সামরিক হামলার অভিযোগ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের লাভান দ্বীপের তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনায় উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
মার্কিন দৈনিক The Wall Street Journal–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির সময়ও ইরানে বিচ্ছিন্ন হামলা চলছিল। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পশ্চিমা প্রযুক্তিতে সজ্জিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক বাহিনী নজরদারি নেটওয়ার্ক ও আধুনিক যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে এসব অভিযানে অংশ নেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের লাভান দ্বীপের একটি তেল শোধনাগার। এপ্রিলের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার সময় ওই হামলা সংঘটিত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং শোধনাগারটির উৎপাদন কার্যক্রম কয়েক মাসের জন্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
যদিও সংযুক্ত আরব আমিরাত আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি, ইরান তখন জানিয়েছিল যে স্থাপনাটি “শত্রুপক্ষের হামলার” শিকার হয়েছে। এর জবাবে ইরান আমিরাত ও কুয়েতে হামলা চালায় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
যদি এসব তথ্য সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রথম উপসাগরীয় রাষ্ট্র হবে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে BBC জানিয়েছে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানির দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যের মূল্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অন্যদিকে যুদ্ধ চলাকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইসরায়েল আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দিয়েছে বলেও দাবি উঠেছে। ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত Mike Huckabee জানিয়েছেন, ইসরায়েল আমিরাতে আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারি ও সেগুলো পরিচালনার জন্য কর্মী মোতায়েন করেছিল।