মাদ্রাসায় বলৎকার ও ধর্ষণে শরিয়া আইন বাস্তবায়ন চান মাওলানা মামুনুল হক।

মাওলানা মামুনুল হক শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে শরিয়া আইন বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছেন।
সম্প্রতি এক দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, দেশে শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ ঘটনা বিরতি দিয়ে দিয়ে ঘটছে। অনেক ঘটনা আলোচনায় এলেও অসংখ্য ঘটনা থেকে যাচ্ছে আড়ালে। বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষার পবিত্র অঙ্গন মাদ্রাসায় বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা সমাজে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, মাদ্রাসার বাইরে স্কুল-কলেজসহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এমন অপরাধের মাত্রা আরও বেশি হতে পারে। তার ভাষায়, “এমন পৈশাচিক ও জঘন্য ঘটনা যেখানেই ঘটুক, মাদ্রাসা কিংবা স্কুল, বাসা-বাড়ি কিংবা অন্যত্র—এর বিহিত হওয়া জরুরি।”
মাওলানা মামুনুল হক দাবি করেন, অপরাধ দমনে কঠোর আইনের প্রয়োগ প্রয়োজন এবং শরিয়া আইন এ ক্ষেত্রে সর্বোত্তম ব্যবস্থা। তবে তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই সব অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়; বরং নৈতিকতা, চারিত্রিক উন্নয়ন এবং আল্লাহভীতির পরিবেশ তৈরিও জরুরি।
পোস্টে তিনি অপরাধ বৃদ্ধির কয়েকটি কারণও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে বিকৃত যৌনরুচি, পর্নোগ্রাফির বিস্তার এবং শয়তানপূজার প্রভাব। আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত জেফরি এপস্টাইন কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, বিশ্বজুড়ে বিকৃত যৌনাচার ছড়িয়ে দেওয়ার একটি সংগঠিত প্রবণতা রয়েছে।
এ সময় তিনি ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামিতার প্রসঙ্গও টেনে আনেন এবং এগুলোকে “বিকৃত রুচি” আখ্যা দেন। পাশাপাশি বিশ্ব রাজনীতির কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে তাদের একই ধারার অংশ বলেও মন্তব্য করেন।
শরিয়া আইন নিয়ে সমালোচকদের বক্তব্যের জবাবে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, শরিয়া শুধু কঠোর শাস্তির নাম নয়; বরং এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা। তার দাবি, কুরআন-সুন্নাহর মূলনীতির আলোকে ইজমা, ইজতেহাদ ও তাজদীদের মাধ্যমে ইসলামী শরিয়া সব যুগেই প্রয়োগযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, মাযহাবগত মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র ও আদালতের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা অনুসারে শরিয়া আইন কার্যকর করা সম্ভব এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এর সফল প্রয়োগ রয়েছে।