
চবি প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস সংলগ্ন জোবরা এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থীসহ ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান। শনিবার (২৩ মে) গভীর রাতে জোবরা গ্রামের চৌধুরী পুকুর ২ নম্বর সড়ক এলাকার একটি বহুতল ভবন থেকে তাদের আটক করা হয়। আটকের পর সাকিফ রহমানকে গণধোলাই দেয় উত্তেজিত স্থানীয় জনতা। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ছাত্রদল নেতা সাকিফ রহমান জোবরা এলাকার জে এম টাওয়ার সংলগ্ন একটি ভবনের ফ্ল্যাটে থাকতেন। শনিবার গভীর রাতে ওই বাসায় এক নারী সহপাঠীসহ (যিনিও চবির শিক্ষার্থী) তাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা ঘরটি অবরুদ্ধ করে। পরে তাদের দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে না পারায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে সাকিফকে মারধর করে। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাদের উদ্ধার করেন।
অন্যদের জড়িয়ে অপপ্রচারের চেষ্টা:
এদিকে ঘটনার পরপরই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায় এড়াতে এবং মূল ঘটনা ধামাচাপা দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের চেষ্টা চালানো হয়। ‘মিডিয়া অব জোবরা-ফতেহপুর’ নামের একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট এডিট করে চবির অন্য দুই শিক্ষার্থী— আব্দুল্লাহ আল মামুন ও নাজিফা তাসনিম প্রিয়ন্তীর নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। তবে আব্দুল্লাহ আল মামুন তাৎক্ষণিকভাবে ফেসবুক লাইভে এসে প্রমাণসহ জানান যে, তিনি ঘটনার সময় সিরাজগঞ্জে নিজের গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।
ফেসবুক পোস্ট নিয়ে বিতর্ক:
শিক্ষার্থীরা জানান, এই ঘটনার মাত্র দুদিন আগে (২১ মে) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)-এর উদ্যোগে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য অনুষদ ক্যান্টিনে 'ছাত্রী কর্নার' স্থাপন করা হলে সাকিফ রহমান ফেসবুকে সেটিকে কটাক্ষ বা ব্যঙ্গ করে পোস্ট দেন। এ নিয়ে সাধারণ নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীদের মাঝে তার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ চলছিল। এর মধ্যেই তিনি নিজেই নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে আটক হলেন।
সাংগঠনিক পরিচয়:
অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান চবি শাখা ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া তিনি সর্বশেষ চাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এই ঘটনার পর চবি ছাত্রদল বা কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে কোনো সাংগঠনিক বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।