সিলেটের উন্নয়ন বৈষম্যের প্রতিবাদে অবস্থান-অনশন, সিলেটবাসী পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান।

সিলেট, ১০ অক্টোবর ২০২৫: সিলেট অঞ্চলে প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক বৈষম্যের প্রতিবাদে গককাল থেকে অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন সুজন। সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, চৌহাট্টায় অবস্থান করে তিনি এই কর্মসূচি পালন করছেন, যাতে যোগ দিচ্ছেন দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। সিলেটবাসীদের এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়াজ তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
অনশনের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “সিলেটের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে চরম অবহেলা চলছে, যা এ অঞ্চলের মানুষকে পিছিয়ে রাখছে।” তিনি সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কাজের অগ্রগতি তুলে ধরে জানান, ২০২১ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে গত পাঁচ বছরে মাত্র ১৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
রেল যোগাযোগের অবস্থা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। “সিলেট-ঢাকা রেল লাইন এখনও ব্রিটিশ আমলের। চীনা একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ডাবল লাইন করার আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু সেটাও ভেস্তে গেছে,” বলেন মামুন।
বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্প নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। ২০২২ সালে শুরু হওয়া এই কাজে গত চার বছরে মাত্র ২২ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইটের সংখ্যাও খুব সীমিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সিলেটের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে মামুনের অভিযোগ আরও গুরুতর। তিনি জানান, এ অঞ্চলে মাল্টিডাইমেনশনাল দারিদ্র্যের হার ৩৭.৭০ শতাংশ, যখন সাধারণ দারিদ্র্য সীমার নিচে রয়েছে ২৫.৫০ শতাংশ মানুষ। শিক্ষা খাতে অবহেলার উদাহরণ দিয়ে বলেন, “২০১৯ সালে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু সেটাও ভেস্তে গেছে। বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাস্ট) অধীনে থাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ৭০টি পদের মধ্যে ৫০টি শূন্য। এমনকি অধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রারের পদও খালি।”
পর্যটন নগর হিসেবে সিলেটের সম্ভাবনা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। “সিলেটকে পর্যটন নগর বলা হয়, কিন্তু পর্যটন স্পটগুলোর উন্নয়নে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই,” বলেন মামুন।
অর্থনৈতিক অবদানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “গত অর্থবছরে সিলেটের প্রবাসীরা ২৬৩ কোটি ৮৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই।”
এই অনশন কর্মসূচি সিলেটের বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যোগদানকারীরা বলছেন, এটি সিলেটের অধিকার আদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। স্থানীয় প্রশাসন থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।