কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের দাবিতে জনস্রোত: সাত দিনের আলটিমেটাম, না হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অচল

একটি বিভাগ হওয়ার সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যুগের পর যুগ কুমিল্লাকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে— এমন অভিযোগ তুলে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে কুমিল্লার মানুষ। বক্তারা বলেন, কুমিল্লার মানুষ যখনই বিভাগের দাবি তোলে, তখনই শুরু হয় ষড়যন্ত্র।
আজ শুক্রবার বিকেলে নগরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে ‘বৃহত্তর কুমিল্লা কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাসোসিয়েশন ও বৃহত্তর কুমিল্লার জনসাধারণের উদ্যোগে’ আয়োজিত সমাবেশে হাজারো মানুষ অংশ নেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল কান্দিরপাড় থেকে শুরু হয়ে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, কুমিল্লা বিভাগের বাস্তবায়ন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাত দিনের মধ্যে কুমিল্লা বিভাগ ঘোষণার সিদ্ধান্ত না এলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অচল করে দেওয়া হবে।
এ সময় কান্দিরপাড় এলাকা ‘কুমিল্লা, কুমিল্লা’, ‘তুমি কে আমি কে, কুমিল্লা কুমিল্লা’, ‘কুমিল্লা বিভাগ চাই’— এসব স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।

সমাবেশে অংশ নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমিন-উর-রশিদ (ইয়াছিন) বলেন, “কুমিল্লাকে আর বঞ্চিত করে রাখা যাবে না। ষড়যন্ত্র করে কুমিল্লা বিভাগ আটকে রাখা সম্ভব নয়। আজকের সমাবেশে শিশু থেকে বৃদ্ধ— সবার উপস্থিতি প্রমাণ করছে, কুমিল্লা নামেই কুমিল্লা বিভাগ ঘোষণা আল্লাহ ছাড়া কেউ ঠেকাতে পারবে না।”
বৃহত্তর কুমিল্লা কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি টিপু চৌধুরী বলেন, “সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কুমিল্লাকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। এখন দেখি নোয়াখালীর কিছু মানুষ আপত্তিকর মন্তব্য করছে, বিষোদ্গার করছে। আমি ভিডিওর মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছি, এজন্য হুমকিও পাচ্ছি। তবে কুমিল্লার মানুষ ধৈর্য ধরে আছে— আমরা যদি রাস্তায় নামি, নোয়াখালীর মানুষ চলাচলের পথও পাবে না।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান আমির, কুমিল্লার কাগজের সম্পাদক আবুল কাশেম, কল্যাণ পার্টির মহানগর সভাপতি শহীদুর রহমান, এবি পার্টির মহানগর আহ্বায়ক জি এম সামদানী, ছাত্রদল নেতা ফখরুল ইসলাম, তোফায়েল আহমেদ, প্রবাসী সোহেল রানা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইসরাত জাহান, মঞ্জুরুল ইসলাম প্রমুখ।