সিলেটে সম্পদে এগিয়ে মুক্তাদির দম্পতি, সর্বনিম্ন এমরান পরিবারের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এসব হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে আসছে প্রার্থীদের পারিবারিক সম্পদের নানা দিক, যা ভোটারদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, রাজনীতিতে সক্রিয় প্রার্থীদের তুলনায় তাঁদের স্ত্রীরা আর্থিকভাবে বেশি স্বচ্ছল। স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, নগদ অর্থ ও বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবে এই পার্থক্য নির্বাচনী আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
কোথাও স্বামী-স্ত্রীর মিলিত সম্পদের পরিমাণ ছাড়িয়েছে কয়েক দশক কোটি টাকা, আবার কোথাও তা সীমাবদ্ধ এক কোটির সামান্য বেশি টাকায়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটের ছয়টি আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামায় অস্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তির হিসাব বিশ্লেষণ করেই এই তথ্য পাওয়া গেছে।
সিলেট-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের হলফনামা অনুযায়ী তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১৫ কোটি ৭২ লাখ ৭ হাজার ৭৮৯ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৪১ টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পত্তি ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭৩০ টাকা।
অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী জাকিয়া ইয়াসমিনের অস্থাবর সম্পত্তি ৮ কোটি ৩৪ লাখ ২১ হাজার ১০৫ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি ৬ কোটি ১৮ লাখ ৯ হাজার ৭৯৮ টাকা। জাকিয়া ইয়াসমিনের মোট সম্পত্তি ১৪ কোটি ৫২ লাখ ৩০ হাজার ৯০৩ টাকা। ফলে এই দম্পতির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৮ কোটি ৮৮ লাখ ৭৯ হাজার ৬৩৩ টাকা। যা সিলেটের বিএনপি প্রার্থীদের দম্পতিদের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্পদের পরিমান।
সিলেট-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোছা. তাহসিনা রুশদীর লুনার হলফনামা অনুযায়ী তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি ১ কোটি ৫০ লাখ ১ হাজার ১৫৯ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি ৮৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫০০ টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পত্তি ২ কোটি ৩৯ লাখ ৬৭ হাজার ৬৫৯ টাকা। হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর স্বামী নিখোঁজ এম ইলিয়াছ আলীর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩ কোটি ৮৬ লাখ ২৪ হাজার ৮২৫ টাকা। এতে লুনা দম্পতির মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ২৫ লাখ ৯২ হাজার ৪৮৪ টাকা।
সিলেট-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের হলফনামা অনুযায়ী তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি ২ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। তাঁর স্ত্রী দিলারা মালিকের অস্থাবর সম্পত্তি ৪০ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি প্রায় ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা। দিলারা মালিকের মোট সম্পত্তি ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ফলে এই দম্পতির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪ কোটি ৫ লাখ টাকা।
সিলেট-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর হলফনামা অনুযায়ী তাঁর মোট সম্পত্তি ১৯ কোটি ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৬৬ টাকা। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পত্তি ৪ কোটি ৩৩ লাখ ২৭ হাজার ৩৮৪ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি ১৫ কোটি ২৬ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮২ টাকা।
তাঁর স্ত্রী সামা হক চৌধুরীর অস্থাবর সম্পত্তি ১ কোটি ৪৭ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৪ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি ৬ কোটি ৯৫ লাখ ১৩ হাজার ২০৭ টাকা। তাঁর মোট সম্পত্তি ৮ কোটি ৪২ লাখ ৭১ হাজার ৯৯১ টাকা। ফলে আরিফুল হক চৌধুরী দম্পতির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৮ কোটি ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৭ টাকা।
সিলেট-৫ আসনে বিএনপির কোনো মনোনীত প্রার্থী নেই। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি সিলেট জেলা কমিটির বহিষ্কৃত প্রথম সহসভাপতি মো. মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন)। তাঁর হলফনামা অনুযায়ী মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ২২ লাখ ৫৫ হাজার ২৯৪ টাকা। তাঁর স্ত্রী হাসিনা আক্তারের কোনো সম্পদ নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সিলেট-৬ আসনে বিএনপির দুই প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়ে বৈধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এমরান আহমদ চৌধুরীর মোট সম্পত্তি ১ কোটি ৫ লাখ ৫০ হাজার ৮১০ টাকা। তাঁর স্ত্রী সৈয়দা নুরুন্নাহারের সম্পত্তি মাত্র ২১ হাজার ৬৭৬ টাকা। এতে এই দম্পতির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৫ লাখ ৭২ হাজার ৪৮৬ টাকা। যা সিলেটের বিএনপি প্রার্থীদের দম্পতিদের মধ্যে সর্বনিম্ন সম্পদের পরিমান।
অন্যদিকে একই আসনের প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরীর মোট সম্পত্তি ১১ কোটি ১৬ লাখ ২১ হাজার ৯০২ টাকা এবং তাঁর স্ত্রী রুশিনা আহমদ চৌধুরীর সম্পত্তি ১ কোটি ৭৫ লাখ ৩৪ হাজার ২৩২ টাকা। ফলে ফয়সল দম্পতির মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৯১ লাখ ৫৬ হাজার ১৩৪ টাকা। হলফনামায় তাঁর স্ত্রী কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।