জুলাই সনদে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলনের দাবি ও এলজিবিটি এজেন্ডার বিরোধিতা মূল্যবোধ আন্দোলনের।

ঢাকা, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬: মূল্যবোধ আন্দোলন গতকাল (১৪ জানুয়ারি) ঢাকায় এক প্রেস কনফারেন্সে জুলাই সনদ, গণভোট এবং আসন্ন নির্বাচনী এজেন্ডায় আধিপত্যবাদবিরোধী গণআকাঙ্ক্ষা এবং ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলনের দাবি তুলেছে। সংগঠনটির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন এবং মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মাদ সাদাতের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে এলজিবিটি (লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল, ট্রান্সজেন্ডার) এজেন্ডাকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তারা দাবি করেছে যে, সরকার পশ্চিমা সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের মাধ্যমে দেশের মূল্যবোধকে হুমকির মুখে ফেলছে।
প্রেস কনফারেন্সে মূল্যবোধ আন্দোলনের নেতারা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে বলেন, শহীদ আবু সাঈদ এবং শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মতো ব্যক্তিরা ইসলামী মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত হয়ে জীবন দিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ট্রান্সজেন্ডার এবং সমকামিতা-সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একজন সমকামী ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি এবং প্ররোচনার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৩৭৭ ধারার লঙ্ঘন।
“আমরা দুই ধরণের আধিপত্যবাদের শিকার—ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী আধিপত্যবাদ এবং এলজিবিটি ও ট্রান্সজেন্ডারবাদের মাধ্যমে পাশ্চাত্যের সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ,” বলেন ড. সরোয়ার হোসেন। তিনি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র’ (Inclusive State) এবং ‘রেইনবো নেশন’ মতো পরিভাষাকে সমকামী অধিকারের প্রচ্ছন্ন প্রচারণা হিসেবে চিহ্নিত করেন। বিবৃতিতে জাতিসংঘের LGBTI Inclusion Index-এর উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, এমন নীতি গ্রহণ করলে সংসদে সমকামীদের কোটা, শিক্ষাক্রমে যৌনতা-সংক্রান্ত তথ্য এবং সমকামিতা বৈধকরণের পথ প্রশস্ত হবে।
সংগঠনটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কয়েকটি কার্যক্রমের সমালোচনা করে: ঈদ শোভাযাত্রায় ‘ইউনিকর্ন’ প্রদর্শন, নববর্ষের ড্রোন শোতে ‘গে এঞ্জেল’, ট্রান্সজেন্ডারকে ‘অদম্য নারী পুরস্কার’ প্রদান, এবং শ্রম আইনে ILO C190 সনদ অনুমোদন। তারা দাবি করেন যে, এগুলো ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে মূল্যবোধ আন্দোলন বলেছে যে, সনদে ইসলামী মূল্যবোধের স্থান না থাকায় এবং ‘সাম্য’, ‘সামাজিক ন্যায়বিচার’ মতো শব্দের মাধ্যমে এলজিবিটি অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। তারা সনদের ৭, ৮, ২১ এবং ২২ নম্বর ধারায় আপত্তি জানিয়ে গণভোটে তিনটি অপশন রাখার দাবি তুলেছে: ‘হ্যাঁ’, ‘আপত্তিসহ হ্যাঁ’ এবং ‘না’। এছাড়া, সনদে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী কোনো আইন পাস না হয়।
সংগঠনটি ইসলামপন্থী দলগুলোকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে যে, গণভোটের বর্তমান ফরম্যাট ‘এক গ্লাস দুধে এক চামচ বিষ’ মেশানোর মতো। তারা দেশের সাংবাদিকদের এই বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।
এই প্রেস কনফারেন্সের বিবৃতি মূল্যবোধ আন্দোলনের ওয়েবসাইট mullobodh.com-এ প্রকাশিত হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই ইস্যু আসন্ন গণভোট এবং নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।